পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ পদক্ষেপের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বিশেষ পদক্ষেপের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

আইন ও আদালত ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে একটি নেতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে। প্রশাসন ও বিচার বিভাগ এই অপরাধকে কোনোভাবেই পার পেয়ে যেতে দেবে না।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম বহিঃপ্রকাশ এবং এটি সামগ্রিকভাবে মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ কারণে সরকার এই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হবে এবং সেখানেই এর বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং দেশের বিচার ব্যবস্থার মামলার জট নিরসনে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী অতীতের কিছু দৃষ্টান্ত স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এর আগে মাগুরার চাঞ্চল্যকর ‘আছিয়া হত্যাকাণ্ড’ মামলায় মাত্র ৭ দিনের মধ্যে পুলিশ চার্জশিট প্রদান করেছিল এবং এক মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছিল। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলেও উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তিতে যে সময় লাগে, তা নিরসনে প্রয়োজনীয় ‘পেপার বুক’ দ্রুত প্রস্তুত করার তাগিদ দেন তিনি।

নিহত শিশুর পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনায় কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, বিচার কার্যকর করার চূড়ান্ত এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের এবং নির্বাহী বিভাগ বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে প্রসিকিউশন ও তদন্তের গতি বৃদ্ধি করে বিচারকদের রায় প্রদানে সহায়তা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামগ্রিক আইনি পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা প্রত্যাহারের ঢালাও সুযোগ থাকলেও, ধর্ষণ বা নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলাগুলো কোনো অবস্থাতেই এই তালিকার আওতাভুক্ত করা হবে না। সরকার অপরাধের ধরণ বিবেচনা করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ