মিরপুরের ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলায় সাবেক এমপি তুহিন গ্রেফতার

মিরপুরের ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলায় সাবেক এমপি তুহিন গ্রেফতার

জাতীয় ডেস্ক

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও গুরুতর জখমের ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদুল ইসলাম আসামিকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদনের পক্ষে শুনানি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তুহিনকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার শ্যালক ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময় রাবার বুলেটের আঘাতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে হামলাকারীরা তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এর পরপরই একই এলাকায় কাপড় গোছানোর সময় ব্যবসায়ীর শ্যালকের ওপরও গুলি চালানো হয়। এতে একটি গুলি তার বাম পায়ে লাগলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া টিয়ারশেলের আঘাতে তার দুটি চোখই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে পেশ করা আবেদনে উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত এই হামলার ঘটনার সঙ্গে সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলহাজতে থাকা এই আসামিকে বর্তমান মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ জুন ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেফতার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তখন থেকেই তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মিরপুরের এই হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে নতুন করে যুক্ত করার মাধ্যমে ঘটনার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া গতিশীল হবে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ