যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফুটবলারদের কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি, বিতর্ক ও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফুটবলারদের কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি, বিতর্ক ও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা

ক্রীড়া ডেস্ক

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর একের পর এক অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নজিরবিহীন এবং কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের পর এবার পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবল দলকেও দেশটির বিমানবন্দরে দীর্ঘ অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং ব্যাপক তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকাদের ক্ষেত্রেও মার্কিন ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর ও আপসহীন মনোভাব বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলটি যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করার পর দেশটির সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং অভিবাসন পরিষেবা বিভাগের কঠোর নজরদারির মধ্যে পড়ে। সাধারণত তারকা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যে ধরনের শিথিলতা বা বিশেষ সুবিধা দেখা যায়, এবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে। দলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারসহ স্কোয়াডের প্রত্যেক ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং সহায়তাকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ যাত্রীদের মতোই পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিবাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে ব্রাজিল দলের প্রত্যেক সদস্যকে মেটাল ডিটেক্টরের ভেতর দিয়ে যেতে হয় এবং স্ক্যানিংয়ের জন্য তাদের সমস্ত লাগেজ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র জমা দিতে হয়। এমনকি সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের দোহাই দিয়ে ফুটবলারদের জুতো পর্যন্ত খুলে তল্লাশি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি আরও বৃদ্ধি পায়, যা নিয়ে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কেবল ব্রাজিলেই নয়, এর আগে টেক্সাসের সান আন্তোনিও এবং নিউইয়র্কসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলগুলোকেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত ১৬ জুন ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেনেগাল দলের ফুটবলারদের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী একইভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। অন্যদিকে উজবেকিস্তান ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত শুঁকে শনাক্তকারী কুকুরের (স্নাইফার ডগ) মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি কেবল খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও কেবল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অজুহাতে সোমালিয়ার একজন আন্তর্জাতিক রেফারিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যা ক্রীড়া কূটনীতিতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরের আগে মার্কিন কর্তৃপক্ষের এমন আচরণকে বিশ্বের অনেক ফুটবল সংস্থাই ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘হয়রানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক উৎসবের পরিবেশ নিশ্চিত করতে যেখানে দলগুলোকে স্বাগত জানানোর কথা, সেখানে এই ধরনের নজিরবিহীন তল্লাশি খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। তবে মার্কিন নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষা বিভাগের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ভিআইপিদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই প্রমিত কার্যপ্রণালী (এসওপি) কঠোরভাবে বজায় রাখা হচ্ছে, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা দলের জন্য আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে দলগুলোর এমন অভিজ্ঞতা আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনে নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্নে নতুন এক বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ