খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফুটবল ক্লাব অরল্যান্ডো সিটির হোম ভেন্যু ‘ইন্টার অ্যান্ড কো স্টেডিয়াম’-এ কোস্টারিকাকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে ইংলিশদের হয়ে গোল করেছেন ডেক্লান রাইস, অ্যান্থনি গর্ডন ও অলি ওয়াটকিন্স। এই জয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই মূল টুর্নামেন্টে প্রবেশ করতে যাচ্ছে থ্রি লায়ন্সরা।
ম্যাচটি স্থানীয় সময় অনুযায়ী তীব্র গরম এবং ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মাঠের লড়াইয়ে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে টমাস টুখেলের শিষ্যরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল দখল এবং আক্রমণ—সব বিভাগেই কোস্টারিকার চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইউরোপের পরাশক্তিরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের মাত্র নয় মিনিটেই লিড নেয় ইংল্যান্ড। উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে বল পেয়ে আর্সেনালের তারকা মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস কোস্টারিকার রক্ষণভাগ লক্ষ্য করে শট নেন। শটটি প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ডান প্রান্ত দিয়ে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় টুখেলের দল। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে রক্ষণাত্মক কৌশলে চলে যায় কোস্টারিকা।
ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ননি মাদুয়েকে। কোস্টারিকার গোলরক্ষক সেকুইরাকে কাটিয়ে ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়েও বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন চেলসির এই ফরোয়ার্ড। এর কিছুক্ষণ পরেই ডি-বক্সের ভেতর গর্ডনকে প্রতিপক্ষের শন জনসন ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে ইংল্যান্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ইংলিশরা। ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে কোস্টারিকার ডি-বক্সের ভেতরে হ্যান্ডবল হলে পেনাল্টি লাভ করে ইংল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার অ্যান্থনি গর্ডন। পুরো ম্যাচ জুড়েই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গর্ডন এই গোলের মাধ্যমে আসন্ন বিশ্বকাপে প্রথম একাদশে নিজের স্থান প্রায় নিশ্চিত করে নিলেন।
ম্যাচের শেষভাগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা মরগান রজার্স কোস্টারিকার গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তের ঠিক আগে রজার্সের নেওয়া একটি জোড়ালো শট কোস্টারিকার ডিফেন্ডাররা পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারলে, ফিরতি বলে চমৎকার হেডের মাধ্যমে গোল করেন অলি ওয়াটকিন্স। এই গোলের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ৩-০ ব্যবধানের সহজ ও বড় জয় নিশ্চিত হয়।
বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এই জয় ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। প্রধান কোচ টমাস টুখেলের জন্য এই ম্যাচটি ছিল দলের শক্তি ও দুর্বলতা পরখ করে নেওয়ার শেষ সুযোগ। বিশেষ করে অ্যান্থনি গর্ডনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং আক্রমণভাগের বোঝাপড়া কোচকে বিশ্বকাপের মূল পর্বের কৌশল সাজাতে বড় সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, কোস্টারিকার জন্য এই ম্যাচটি ছিল তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার একটি বড় পাঠ।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। হাইভোল্টেজ সেই ম্যাচের আগে কোস্টারিকার বিপক্ষে এই দাপুটে জয় ইংলিশ ফুটবলারদের মানসিকভাবে বেশ এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।


