জাতীয় ডেস্ক
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে লাইসেন্স বাতিলের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানে ছয়জন নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি গণমাধ্যম ও পাবলিক ডোমেইনে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নবজাতকদের মৃত্যুর পেছনে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) অব্যবস্থাপনা, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব ছিল বলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সেবার মান, নবজাতকদের চিকিৎসার নথিপত্র এবং ঘটনার রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মীদের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে। তদন্ত শেষে কমিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর গাফিলতির প্রমাণ মেলে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কেন তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ জারি করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই নোটিশের লিখিত জবাব দিলেও, তা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার কাছে গ্রহণযোগ্য বা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি। ফলে জনস্বার্থ ও চিকিৎসাসেবার মান সুরক্ষায় হাসপাতালটির লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসা খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রায়শই সেবার মান এবং অবহেলার যেসব অভিযোগ ওঠে, এই ধরনের কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা তা নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে। তবে একই সাথে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মতো একটি বড় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকা অন্যান্য সাধারণ রোগীদের যেন চরম ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিকল্প ও জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


