জাতীয় ডেস্ক
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী বর্তমানের মতো ২০ হাজার টাকাই অপরিবর্তিত থাকছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য চলমান মাসিক আর্থিক ভাতাও অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এই সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার রূপরেখা উন্মোচন করা হয়।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে আরও সম্মানিত করতে তাদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবপ্রাপ্তরা মাসিক ৪০ হাজার টাকা, ‘বীর উত্তম’ খেতাবপ্রাপ্তরা ৩০ হাজার টাকা, ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্তরা ২৫ হাজার টাকা এবং ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্তরা ২৫ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। তবে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি; তাদের পূর্বনির্ধারিত ২০ হাজার টাকার সম্মানী বহাল রাখা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ
সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য বিশেষ পুনর্বাসন ভাতা চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের শারীরিক ক্ষতির তীব্রতা বিবেচনা করে তিন স্তর বা ক্যাটাগরিতে (এ, বি ও সি) বিভক্ত করে যথাক্রমে মাসিক ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ভাতা প্রদান করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজেটের আকার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণীত এই বাজেটের বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।


