খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দীর্ঘদিনের গোল খরা এবং চোটের ধকল কাটিয়ে এই ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করেছেন দলটির মিডফিল্ডার হোয়াং ইন-বিওম। দলের অধিনায়ক সন হিউং মিনের অফ-ফর্মের দিনে আক্রমণভাগের হাল ধরে দক্ষিণ কোরিয়াকে সমতায় ফেরানোর পাশাপাশি জয়সূচক গোলেও অবদান রাখেন তিনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়া বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা গোল লাইনের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে অধিনায়ক সন হিউং মিন বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করলে ব্যাকফুটে চলে যায় এশিয়ান পরাশক্তিরা। এই সুযোগে রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচে লিড নেয় চেক প্রজাতন্ত্র। ম্যাচের একটি বড় সময় জুড়ে পিছিয়ে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
খেলার গতিপ্রকৃতি যখন চেক প্রজাতন্ত্রের অনুকূলে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন হোয়াং ইন-বিওম। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সতীর্থ লি কাং-ইনের বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে প্রবেশ করেন হোয়াং। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফেরায় দক্ষিণ কোরিয়া।
এই গোলটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে হোয়াং ইন-বিওমের দীর্ঘ আড়াই বছরের গোল খরা অবসান ঘটাল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাহরাইনের বিপক্ষে সবশেষ গোল করেছিলেন এই কোরিয়ান ফুটবলার। এরপর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে তার কোনো গোল ছিল না। একই সাথে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো অ্যাসিস্টও করতে পারেননি তিনি।
সমতা ফেরানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি পায়। প্রথম গোলের কিছু পরেই ম্যাচের গতি নির্ধারণী অবদানটি আবার আসে হোয়াংয়ের পা থেকেই। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে তার বাড়ানো একটি নিচু কাটব্যাক দক্ষতার সাথে জালে পাঠান বদলি খেলোয়াড় ওহ হিউন গিউ। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া এবং শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে দলটি।
বিগত একটি বছর হোয়াং ইন-বিওমের ক্যারিয়ারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কুয়েতের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কাফ ইনজুরি এবং লিগামেন্ট স্ট্রেচিংয়ের মতো গুরুতর চোটের কারণে জাতীয় দলের হয়ে টানা ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করতে হয়েছিল তাকে। চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পর বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই এক গোল ও এক অ্যাসিস্টের এই পারফরম্যান্স দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে এগিয়ে থেকেও রক্ষণভাগের মনোযোগ হারানোর কারণে পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো চেক প্রজাতন্ত্রকে। দক্ষিণ কোরিয়ার পরবর্তী ম্যাচের রণকৌশল এবং আক্রমণভাগে হোয়াংয়ের ভূমিকা এখন ফুটবল বিশ্লেষকদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।


