যৌথ আয়োজক কানাডার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু আজ, অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস মাঠের বাইরে

যৌথ আয়োজক কানাডার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু আজ, অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস মাঠের বাইরে

ক্রীড়া ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে খেলতে নামছে উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা। আজ রাত ১টায় ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকরা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। তবে ঐতিহাসিক এই ম্যাচের আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে কানাডিয়ান শিবির। চোটের কারণে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন দলটির নিয়মিত অধিনায়ক ও অন্যতম প্রধান তারকা আলফোনসো ডেভিস। যৌথ আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করছে কানাডা। ঘরের মাঠের এই টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ কাতার এবং সুইজারল্যান্ড। টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে এবারের আসরের মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশটির ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।

বিশ্বকাপ ফুটবলে কানাডার অতীত রেকর্ড আশাব্যঞ্জক নয়। এর আগে ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিলেও চূড়ান্ত পর্বে এখন পর্যন্ত কোনো জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। দুই আসর মিলিয়ে খেলা মোট ছয়টি ম্যাচের সবকটিতেই হারতে হয়েছে তাদের। এমনকি কোনো ম্যাচ ড্র করার রেকর্ডও নেই দলটির। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আলফোনসো ডেভিস একটি গোল করেছিলেন, যা বিশ্বকাপে কানাডার ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র গোল। অতীতের এই টানা হারের বৃত্ত ভেঙে এবারের আসরে প্রথম জয় তুলে নেওয়া এবং প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার মূল লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে স্বাগতিকরা।

অধিনায়ক ডেভিসের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ক্ষতি হলেও কানাডার বর্তমান দলটিকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং প্রতিভাবান প্রজন্ম হিসেবে বিবেচনা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। দলে আলফোনসো ডেভিস ছাড়াও রয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিড এবং ফরোয়ার্ড কাইল লেরিন। এই তারকা ফুটবলারদের ওপর ভর করে এবং ঘরের মাঠের চেনা পরিবেশ ও দর্শকদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের জয়হীনতার আক্ষেপ ঘোচাতে মরিয়া ‘লে রুজ’ খ্যাত দলটি।

প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে আসর শুরু করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ স্বাগতিকদের। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন যেমন কানাডার ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনপ্রিয়তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, তেমনি মাঠের পারফরম্যান্সেও একটি স্মরণীয় আসর উপহার দিতে চায় উত্তর আমেরিকার এই উদীয়মান ফুটবল পরাশক্তি। অধিনায়ককে ছাড়া দলের বাকি সদস্যরা এই চাপ সামলে কতটুকু সফল হতে পারেন, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ