জাতীয় ডেস্ক
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৭ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ শিশু এবং অবশিষ্ট ৫৮৪ জন মারা গেছে হামের সদৃশ উপসর্গ নিয়ে।
আজ শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো শিশুর নিশ্চিত হামে মৃত্যু না হলেও সন্দেহভাজন লক্ষণে ৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ৮০৭ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেছে। একই সঙ্গে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে আরও ৮০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া ও আংশিক টিকা নেওয়া শিশুরা এই রোগের ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত বায়ুর মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাসের সাহায্যে ছড়ায়। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা না নিলে এটি মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও তীব্র পুষ্টিহীনতার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়, যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সম্পূরক টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা প্রয়োজন।


