মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে লুকিয়ে ইয়াবা পাচার, নেত্রকোনায় গ্রেফতার ২

মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে লুকিয়ে ইয়াবা পাচার, নেত্রকোনায় গ্রেফতার ২

অপরাধ ডেস্ক

নেত্রকোনায় মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৭ হাজার পিস ইয়াবা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং পাচারে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বিকেলে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের চিরাম গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া (৩৬) এবং একই এলাকার খাইরুল ইসলামের ছেলে সজীব (২৪)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির একটি দল নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। দুপুরের দিকে একটি মোটরসাইকেলের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামানো হয়। পরে মোটরসাইকেলটি স্থানীয় একটি গ্যারেজে নিয়ে বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। একপর্যায়ে মেকানিকের সহায়তায় মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ভেতরের একটি বিশেষ প্রকোষ্ঠ থেকে কায়দা করে লুকিয়ে রাখা ৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত যানটি এবং তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত অঞ্চল থেকে দেশের অভ্যন্তরে মাদক সরবরাহের জন্য কারবারিরা প্রতিনিয়ত অভিনব ও নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা তেমনই একটি আধুনিক ও জটিল কৌশল, যা সাধারণ তল্লাশিতে ধরা পড়া কঠিন। তবে গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতার কারণে এই চালানটি সফলভাবে জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক জানান, জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা ও আশপাশের জেলাগুলোতে সুকৌশলে মাদকের বড় চালান সরবরাহ করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক আল আমিন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিকেলে নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধ এবং পাচারকারী চক্রগুলোকে নির্মূল করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই ধরনের বিশেষ ও আকস্মিক অভিযান এবং নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জেলা কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ