বিনোদন ডেস্ক
দেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানোর পর উত্তর আমেরিকার বাজারে যাত্রা শুরু করেছে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা চলচ্চিত্র ‘রইদ’। ২৬ জুন (শুক্রবার) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি শহরে সিনেমাটি একযোগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশনা সংস্থা বায়োস্কোপ ফিল্মসের ব্যবস্থাপনায় এই প্রদর্শনী শুরু হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং স্থানীয় বিদেশি দর্শকদের কাছে বাংলা সিনেমাকে তুলে ধরার নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক মুক্তি প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও সুসংহত করবে। উত্তর আমেরিকার মতো বড় বাজারে ৩১টি শহরে একসঙ্গে একটি বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পাওয়া ঢাকাই সিনেমার বৈশ্বিক প্রচারণার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন নির্মিত ‘রইদ’ গত কোরবানির ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির পর থেকেই এর গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয় পারফরম্যান্স দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দেশীয় বাজারে মুক্তির কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও দেশের বিভিন্ন আধুনিক সিনেপ্লেক্সে ছবিটির সফল প্রদর্শনী চলছে। দেশের বাজারে এই ধারাবাহিক সাফল্যের পরই সিনেমাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। এছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ দেশের একঝাঁক দক্ষ ও পরিচিত অভিনয়শিল্পী। অভিনেতাদের সাবলীল পারফরম্যান্স এবং পরিচালকের পরিপক্ব নির্মাণ সিনেমাটিকে সমাদৃত করতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে চলচ্চিত্র সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির আগে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে গত ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ায় ‘রইদ’-এর প্রদর্শনী শুরু হয়। সেখানেও প্রবাসী দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায় চলচ্চিত্রটি। অস্ট্রেলিয়ার পর এবার বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চলচ্চিত্র বাজার যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির মাধ্যমে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলা চলচ্চিত্রের চাহিদা এবং দর্শকপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘রইদ’ চলচ্চিত্রের এই বহুজাতিক মুক্তি সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল এবং বিশ্বমঞ্চে সমকালীন বাংলা সিনেমার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন সংস্কৃতি কর্মীরা।


