• ৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশে শেয়ার ইস্যুতে লাগবে না আগাম অনুমোদন
• লভ্যাংশ পাঠানো ও শেয়ার পরিশোধেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি প্রয়োজন নেই
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু, লভ্যাংশ প্রদান ও তা বিদেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ লভ্যাংশ হারে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করতে পারবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিতে হবে না। একইভাবে এসব শেয়ারের বিপরীতে অর্জিত লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানো এবং শেয়ার পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ (এফইআইডি) থেকে একটি পৃথক সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এফইআইডি সার্কুলার নম্বর ৪-এ অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর, পরিশোধ (রিডেম্পশন) এবং লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের নিয়মাবলি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী কোম্পানি, বিনিয়োগকারী ও লেনদেন-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি কোনো কোম্পানি অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে ৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ হারে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন লাগবে না। তবে শেয়ার ইস্যুর পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ৫ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ হারে অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য প্রস্তাবিত লভ্যাংশের হার নির্ধারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় অগ্রাধিকার শেয়ারের বিপরীতে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব শেয়ার পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগবে না। ফলে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও বিনিয়োগের অর্থ দেশে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। এ ছাড়া অগ্রাধিকার শেয়ারকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের নিয়ম এবং শেয়ার ইস্যু-পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়াও সার্কুলারে স্পষ্ট করা হয়েছে। এর ফলে অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিগত স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

