গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে ১৫ জন আখচাষি সরকারি প্রণোদনার চেক গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদও ছিলেন। তিনি ১২ হাজার ৫০০ টাকার চেক পেয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সংসদ সদস্য চাঁদ একজন আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা পেয়েছেন। তিনি এমপি হলেও একজন নিবন্ধিত আখচাষি।
তিনি বলেন, তাকে সংসদ সদস্যের বদলে একজন সাধারণ কৃষক হিসেবে দেখলে বিষয়টি নেতিবাচকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। একজন ব্যক্তি বা কৃষক হিসেবে এই প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্যতা তার রয়েছে।
শাহীন শওকত বলেন, শর্ত ও যোগ্যতা অনুযায়ী সব ধর্মের নারী-পুরুষ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। কাউকে অন্যায্য বা বাড়তি টাকা দেওয়া এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়।
তিনি জানান, আখ খেতের ফাঁকা জায়গায় কৃষকেরা সাথী ফসল হিসেবে ডাল, বাঁধাকপি, আলু এবং পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো মৌসুমি ফসল আবাদ করছেন। সারা দেশে আখের সারির মাঝে কয়েক লাখ একর জমি অব্যবহৃত থাকে। এই বিপুল পরিমাণ জমি কাজে লাগাতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। এর বেড়ে ওঠার সময়ে কৃষকেরা মাঝের ফাঁকা জায়গায় ছোলা ও আলুর মতো স্বল্পমেয়াদি ফসল ফলাতে পারেন। এতে বছরে অন্তত দুই-তিনটি অতিরিক্ত সবজি ও মসলা উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশস্থলে কম্পিউটারের বোতাম চেপে আখচাষিদের ব্যাংক হিসাবে সরকারি সহায়তা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য সরকার ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এই টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ উদ্বোধনের পর ১৫ জন আখচাষিকে মঞ্চে ডাকা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে চেক তুলে দেন। রাজশাহী চিনিকলের আখচাষি হিসেবে চেক নেওয়ার জন্য প্রথমেই আবু সাঈদ চাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়।
চেক পাওয়া অন্য ১৪ জন হলেন—আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মণ্ডল, ইমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মাহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরন্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রিমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
সরকারি প্রণোদনা নেওয়ার বিষয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, বাপ-দাদা থেকে শুরু করে আমি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে আখ চাষ ও সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শুধু তা-ই না, আমি সব ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করে থাকি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছি। আগামীতেও করব ইনশা আল্লাহ। এ-সংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র রাজশাহী সুগার মিল কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা যাচাই করলেই প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব।’

