তরুণ ক্রিকেটারদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাকাপাকিভঅবে বিদায় দিলেন আগ্রাসী এই ক্রিকেটার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
গত মাসেই বয়স ৩৮ পেরিয়েছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। যদিও ফিট আছেন এখনও এবং টিম ম্যানেজমেন্টের দিক থেকে চাপও ছিল না। তবে নিজেই অনুধাবন করছিলেন, সামনে তাকিয়ে আরও বেশি সুযোগ প্রাপ্য তরুণদের। তাই পাকাপাকিভাবেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন আগ্রাসী এই ক্রিকেটার।
টেস্ট ক্রিকেটের অধ্যায় তার চুকেবুকে গিয়েছিল বেশ আগেই। গত বছরের জুনে বিদায় জানান ওয়ানডে ক্রিকেটকেও। তখন বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে চান ঘরের মাঠে ২০২৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু বছর দুয়েক আগেই সরে দাঁড়ালেন এই সংস্করণ থেকেও।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অবশ্য খেলে যাবেন তিনি। মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে বিগ ব্যাশে তার চুক্তি আছে আরও দুই মৌসুমের। গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে থাকল তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
ওয়ানডে থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন যে পডকাস্টে, সেই ‘ফাইনাল ওয়ার্ড’ পডকাস্টেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের কথা জানান ম্যাক্সওয়েল।
“টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে সম্ভবত অসংখ্যবার আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টা বেশ খোলাখুলি ছিল। তাদের (অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট) পক্ষ থেকে কোনো চাপ ছিল না এবং আমরা দরজাটা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সামনে কয়েকটি সিরিজ আছে, তারা ভবিষ্যতের কথা ভাবছিল এবং আমরা বাংলাদেশে সেটাই দেখেছি, যেখানে তরুণ ক্রিকেটাররা সুযোগ পেয়ে খুব ভালো পারফর্ম করেছে।”
ওয়ানডেতে দুটি ও টি-টোয়েন্টিতে একটি বিশ্বকাপজয়ী তারকা জানান, সামনেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে মাঠ থেকেই বিদায় নেওয়ার ভাবনা তার ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পারিপার্শ্বিকতা অনুধাবন করেই তিনি এখন বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
“আমার মনে হয়, একটা ক্ষীণ আশা বা আলোচনা ছিল যে, হয়তো এমসিজিতে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতে পারতাম। কিন্তু এই স্কোয়াড নিয়ে তারা যে পথে এগোচ্ছে, তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। আমার ধারণা, সামনে অলিম্পিক (২০২৮ সালে) থাকায় আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসবে এবং তাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা যেন উঠে আসা কিছু তরুণ ক্রিকেটারেরর দিকে নজর রাখে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপের মুখোমুখি হয়, যা হয়তো সবসময় বিগ ব্যাশের ম্যাচ থেকে পাওয়া যায় না।”
গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে বেলফাস্ট উলভসকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে নিয়ে যান ম্যাক্সওয়েল। সম্প্রতি ভিক্টোরিয়ার হয়ে খেলেন ঘরোয়া ওয়ানডে কাপে। তবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও বিদায়ের সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। ম্যাক্সওয়েল বললেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার আরেকটু লম্বা করতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তার।
“ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর, সতীর্থদের সাথে কথা বলা এবং তাদের জানানো যে, এটাই এই রাজ্যের হয়ে আমার শেষ ম্যাচ হতে চলেছে, সম্ভবত আমার ধারণার চেয়েও বেশি কঠিন ছিল। আমার পুরো ক্যারিয়ারে তাদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। যতবারই আমি ফিরে এসেছি, সেখানে দুর্দান্ত সতীর্থ এবং রাজ্য থেকে প্রচুর সমর্থন পেয়েছি।
“হ্যাঁ, দলের সামনে কথা বলতে গিয়ে আমি অবশ্যই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু সম্ভবত এটাই সেই সময়. যখন আমার শরীরের পেছনে আরও কিছুটা সময় বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, যাতে আমি আমার ক্যারিয়ারের বাকি কয়েকটি টুর্নামেন্ট ভালোভাবে শেষ করতে পারি।”
মাঠ থেকে নায়কোচিত বিদায়ের ভাবনা তার এসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ভাবনাকে তিনি প্রশ্রয় দেননি।
“সুযোগটা ছিল, বিগ ব্যাশের জন্য প্রস্তুত থাকা নিশ্চিত করতে আমি আমার হাঁটুতে ইনজেকশন নেওয়ার জন্য একরকম প্রস্তুতই ছিলাম। তাই উভয় দিকেই একটা ইতিবাচক দিক ছিল। যে মুহূর্তে সেই দরজাটা বন্ধ হলো, আমি আমার শরীরের জন্য আবার কিছুটা সময় দিতে শুরু করতে পারলাম। সামনের বিগ ব্যাশের জন্য আমি যেন শক্তিশালী ও প্রস্তুত থাকি, তা নিশ্চিত করতে আবারও আট সপ্তাহের কঠোর পুনর্বাসন করেছি।
“নায়ক বা আদর্শদের ক্ষেত্রে যেমন রূপকথার মতো শেষ হতে দেখা যায়, হয়তো মনের অজান্তে আমার মাথায়ও তেমন একটা ভাবনা এসেছিল। ১৫ বছর ধরে এই সংস্করণকে যেহেতু একান্ত নিজের মনে হয়েছে, তাই অন্য কোনো সংস্করণে নয়, শুধু এটার জন্যই হয়তো আমি এমন একটা বিদায়ের কথা ভেবেছিলাম।”
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে রেকর্ড ১৩০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন ২ হাজার ৮৯৭। পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, এই সংস্করণে যা রোহিত শার্মার সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ড। পাশাপাশি অফ স্পিনে উইকেট নিয়েছেন ৫১টি, ফিল্ডিংয়ে ক্যাচ নিয়েছেন ৬২টি।
বন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তে আদিবাসীদের কথা কতটা শোনা হচ্ছে?
জ্বালানির ফাঁদে কৃষি ও পরিবহন: সবুজ রূপান্তরই একমাত্র পথ
যাদের শ্রমে সমৃদ্ধি, তাদের জীবন কতটা নিরাপদ?
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কাঠামোর সন্ধানে

