আফগানিস্তানের কাছে টানা পাঁচটি ওয়ানডেতে হেরে গেল বাংলাদেশ, ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিতে হলো ফাইনালের আগেই।
আউট হয়ে ফিরছেন তাওহিদ হৃদয়, আরও বিপদে দল। ছবি:এসিবি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া পর বাংলাদেশের সমীকরণ ছিল সাধারণ- ফাইনালে খেলতে হলে জিততে হবে অন্তত ৪১ রানে। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার একটু পর সামাজিক মাধ্যমে কৌতুকের সুরে অনেকের প্রশ্ন, “বাংলাদেশের দলীয় রান ৪১ হবে তো?” ওই শঙ্কাটা হয়তো বাড়াবাড়ি। তবে ব্যাটিংয়ের করুণ বাস্তবতাই যেন ফুটে উঠছিল তাতে। শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি বিব্রতকর পরাজয়ে উপহাসে পরিণত হলো ফাইনালে খেলার আশা।
বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয় জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পৌঁছে গেল আফগানিস্তান। শিরোপার মঞ্চে শুক্রবার তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। টানা দুই হারে বাংলাদেশ বিদায় নিল প্রাথমিক পর্ব থেকেই।
শারজাহতে বুধবার বাংলাদেশকে ১৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে আফগানরা ম্যাচ শেষ করে দেয় ৮৭ বল বাকি রেখেই।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, আফগানিস্তানের কাছে এই নিয়ে টানা পাঁচ ওয়ানডেতে হারল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্দশার স্বাক্ষী দলের স্কোরকার্ড। মূল স্কোয়াডে না থাকলেও চোট পাওয়া লিটন দাসের বদলে সুযোগ পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে আসে ৭০ রান। অতি মন্থর ব্যাটিংয়ে সাইফ হাসান করেন ৪১। সঙ্গে অতিরিক্ত মিলিয়ে রান আসে ১৩৩। বাকি ৯ ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত রান মোটে ২৭! শূন্যতে ফেরেন চার ব্যাটসম্যান।
শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে সাইফ ও পারভেজের ৯৩ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাজে শটে সাইফের আত্মহত্যার পর ধসে পড়ে ইনিংস। শেষ ৬ উইকেটের পতন হয় ৩৯ রানের মধ্যে।
পারভেজের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস দলকে কিছুটা রক্ষা করে মহাবিপর্যয় থেকে।ছবি:এসিবি।
চার উইকেট নিয়ে আফগানদের সফলতম বোলার রাশিদ খান। তবে নতুন বলে দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে টালমাটাল করে দেন দুই পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় বলেন, দলের ভেতর সব ঠিকঠাকই আছে, শুধু শুরুটা ভালো করতে চান তারা। তার সেই আশা একটু পরই পরিণত হয় দুরাশায়। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশ হারায় দুই উইকেট।
একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা দল ব্যাটিং অর্ডারেও বদল আনে। তানজিদ হাসানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন সাইফ, তিনে নামেন সৌম্য সরকার। তবে এই বদল কাজে লাগেনি।
ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তানজিদ। পরের ডেলিভারিতেই অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন সৌম্য। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের পা নড়েনি একটুও।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে তিনটি বাউন্ডারি এলেও আবার এক ওভারেই আসে জোড়া ধাক্কা। অফ স্টাম্পের বাইরে কয়েকবার খোঁচা দিয়েও একটুর জন্য বেঁচে যাওয়া শান্ত শেষ পর্যন্ত ১৫ রানে একইভাবে আউট হন আজমাতউল্লাহ ওমারজাইযের বলে। ওই ওভারেই ফ্লিক করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন হৃদয়। ফলো থ্রুতে এক হাতে দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন ওমারজাই।
৭ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ২৮।
এলোমেলো ইনিংসকে গোছানোর কঠিন লড়াইয়ে নামেন সাইফ ও পারভেজ। রানের গতি ছিল মন্থর। মাথা গুজে উইকেট আঁকড়ে রাখাতেই মূলত মন দেন দুজন। এর ফাঁকে আলগা বল পেরে বাউন্ডারিও আসে মাঝেমধ্যে। দলের মিইয়ে যাওয়া আশা জেগে ওঠে দুজনের ব্যাটে।
৭৫ বলে ৫০ করেন পারভেজ, ওয়ানডেতে চতুর্থ ম্যাচে তার দ্বিতীয় ফিফটি।
দুজনের জুটিতে দলের রান পেরিয়ে যায় ১২০। দৃষ্টি তখন ২৫০ রানে। তখনই যেন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সাইফ। হুট করেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন মোহাম্মাদ নাবিকে। ৮২ বলে ৪১ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।
সেখান থেকেই ধসের সূচনা। অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজ বিদায় নেন পরের ওভারে।
রাশিদ তখনও সেভাবে দৃশ্যপটেই নেই। প্রথম ছয় ওভারেও তিনি উইকেট পাননি কোনো। কিন্তু তার ছোবলে এরপর চোখের পলকে ভেঙে পড়ে ইনিংসের বাকিটুকু।
শরিফুল ইসলামকে বোল্ড করার পর তিনি এলবিডব্লিউ করে দেন পারভেজকে। পরে অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানকে টানা দুই বলে ফিরিয়ে শেষ করে দেন ইনিংস।
বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার আশা ততক্ষণে অনেকটাই শেষ। তাসকিন আহমেদ যদিও দারুণ দুটি ডেলিভারিতে রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আটালকে ফেরান দ্রুতই। তবে লক্ষ্য বড় ছিল না বলে চাপও বেশি ছিল না আফগানদের।
তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন ইব্রাহিম জাদরান ও রেহমাত শাহ। ৩৪ রান করে ইব্রাহিম ফেরেন মুস্তাফিজের বলে শান্তর দারুণ ক্যাচে। তবে ম্যাচের উত্তেজনা তখন অনেকটাই শেষ।
রেহমাত ও হাশমাতউল্লাহ শাহিদি মিলে দলকে নিয়ে যান জয়ের ঠিকানা। আফগানিস্তানের বর্তমান ও সাবেক অধিনায়কের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৬৬ রানের। রেহতাম মাঠ ছাড়েন ৬৭ রানে অপরাজিত থেকে।
বহুল প্রতিক্ষীত ওয়ানডে অভিষেকে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারেননি আলিস আল ইসলাম। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার পর তার দিকে আঙুল তোলা কঠিনই।
বিশ্বকাপের বাকি নেই এক বছরও। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এই টানা ব্যর্থতাকে তাই অশনি সংকেত বললেও বুঝি কম বলা হয়।
বাংলাদেশ: ৪১.২ ওভারে ১৬০ (সাইফ ৪১, তানজিদ ১, সৌম্য ০, শান্ত ১৫, হৃদয় ০, পারভেজ ৭০, মিরাজ ২, শরিফুল ৭, আলিস ০, তাসকিন ২*, মুস্তাফিজ ০; ওমারজাই ৭-০-২৭-২, ইয়ামিন ৬-০-২১-২, বিলাল ৬-০-২৩-১, গাজানফার ৫-০-১২-০, রাশিদ ৮.২-০-৩১-৪, নাবি ৯-০-৩৫-১)।
আফগানিস্তান: ৩৫.৩ ওভারে ১৬৩/৩ (গুরবাজ ৬, জাদরান ৩৪, আটাল ৪, রেহমাত ৬৭*, শাহিদি ৩৩*; তাসকিন ৮-২-৩৬-২, শরিফুল ৫-১-১৮-০, আলিস ৮.৩-০-৪৯-০, মুস্তাফিজ ৬-১-৩২-১, মিরাজ ৮-০-২৫-০)।
তৌফিক ভাইয়ের চারটি বাক্য, আমার সাংবাদিকতার পাঠ


