রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে বোর্ডের আওতাধীন আটটি জেলার মাত্র ৯টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি সেগুলো হলো—বগুড়া গাবতলীর তসলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ী মডেল মহিলা কলেজ; ধুনটের গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ; কাহালুর দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরের সাংসইল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও রাজাপুর বাত্তলি হাট কলেজ; মান্দার এসসি মডেল পাইলট হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঘোনা আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ; নওগাঁ সদরের হাঁপানিয়া হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মহাদেবপুরের আরিফ মেমোরিয়াল কলেজ।
নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের বঙ্গবন্ধু সাইন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিএম ইনস্টিটিউট, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ; নাটোর সদরের আবুল খায়ের কলেজ, বেগম খালেদা জিয়া কলেজ, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার কলেজ ও হয়বতপুর মাল্টিলেটারেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ; নলডাঙার সাতার ভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ; লালপুরের রাধাকান্তপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মাঝগ্রাম হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সিংড়ার আকপাড়া শেরকোল বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
জয়পুরহাট সদরের শালপাড়া আইডিয়াল কলেজ এবং কালাইয়ের মোলামগাড়ী আদর্শ কলেজ।
রাজশাহী জেলার পুঠিয়ার বেলপুকুর মহিলা কলেজ; বাঘার তেঁথুলিয়া পীরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ ও ভোকেশনাল; বাগমারার পীরগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, বৈলসিংহ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং কাতিলা সবুজ সংঘ আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ; রাজশাহী কমার্স কলেজ।
পাবনার সাঁথিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক টুকু কলেজ ও ছোন্দহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বেড়ার ঢালারচর স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সিরাজগঞ্জের ছাতিয়ানতলী মোড়গ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ; সিরাজগঞ্জ সদরের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ছোনগাছা মহিলা কলেজ এবং তাড়াশের রানীরহাট আইডিয়াল কলেজ। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজ।
অন্যদিকে, শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করা ৯টি প্রতিষ্ঠান হলো—বগুড়ার বিএএফ শাহীন কলেজ এবং শাহজাহানপুরের মিলিনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ; জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ; পাবনা ক্যাডেট কলেজ; রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ; পাবনার স্কয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ; নাটোরের সিংড়ার বিএম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ; রাজশাহীর দুর্গাপুরের হরিরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের হযরত শাহ কামাল কলেজ।
এমন বিপর্যয়কর ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের বোর্ডে তলব করা হবে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে। নিজেদের ঘাটতি শুধরে নেওয়ার জন্য তাদের এক বছর সময় দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


