সরকারের সাফল্যে দক্ষ, সৎ ও মানবিক প্রশাসন জরুরি: প্রধানমন্ত্রী

“কী করা উচিত কিংবা উচিত নয়, আমি বিশ্বাস করি, সেটি অবশ্যই আপনারা জানেন,” নতুন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন সরকারপ্রধান।

সাভারে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে রোববার নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

জনপ্রশাসনকে নাগরিকবান্ধব করতে কর্মকর্তাদের ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার রাতে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন জরুরি। এগুলো শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

“সুতরাং প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা আরও সহজ এবং নাগরিকবান্ধব করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের চেয়েও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা বেশি কার্যকর। আমি আশা করি, আপনারা এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখবেন।”

সাভারে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্স বা বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান হয়।

চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

নবীন কর্মকর্তাদের সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি শুরুতেই আপনাদের ভবিষ্যৎ কর্মময় জীবনের সুখ, শান্তি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাফল্য কামনা করি। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল আপনারা শিখেছেন। এবার সরকারি প্রশাসনে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হচ্ছে, অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে আপনারা যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন।

“নিঃসন্দেহে আপনাদের জীবনের এটি অন্যতম সেরা একটি আনন্দময় মুহূর্ত। আমি আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবনে আপনাদের কী করা উচিত কিংবা উচিত নয়, এসব নিয়ে আপনাদের সামনে দীর্ঘ কোনো বক্তব্য দেওয়ার অবকাশ রয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ কী করা উচিত কিংবা উচিত নয়, আমি বিশ্বাস করি, সেটি অবশ্যই আপনারা নিজেরাই ভালো জানেন। বরং জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকাটাই জরুরি বিষয়।

“তবে সরকারপ্রধান হিসেবে আপনাদের কাছে আমার চাওয়া হলো, যেকোনো বয়সের একজন নাগরিক কোনো সহযোগিতার জন্য অফিস-আদালতে আপনাদের কাছে গিয়ে যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেটি অবশ্যই আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে আমি আপনাদের একটি ‘গোল্ডেন রুলের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই— আপনি অন্যের কাছ থেকে যেমন আচরণ আশা করেন, অন্যের সঙ্গেও তেমন আচরণ করুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে আপনাকে অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়মের আওতায় কার্যাবলি সম্পন্ন করতে হবে। আপনার আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে পুরো বিষয়টি ‘ডিল’ করার সময় ব্যক্তির সঙ্গে আপনার বা আপনাদের মানবিক আচরণ ছিল কি না, আধুনিক রাষ্ট্র এবং প্রশাসনে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “ধরা যাক, কোনো একজন নাগরিক আপনাদের কাছে একটি আবেদনপত্র নিয়ে এসেছেন। আবেদনপত্রে ভুল থাকলে আপনি যদি বলেন, ‘আবেদনপত্রে ভুল রয়েছে, ঠিক করে আনুন’। এভাবে বলা বেআইনি কিংবা অন্যায় নয়।

“তবে তাকে যদি সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি দেখিয়ে দিয়ে কোথায় কার কাছে গিয়ে ভুলটি সংশোধন করা যায়, সেই পরামর্শটি দিলে সেটিই হবে মানবিকতা কিংবা আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের জনগণ কিন্তু আপনাদের কাছে শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিকতাও আশা করে।”

‘যে কোনো পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের সঙ্গে আমি আরও একটি বিষয় শেয়ার করতে চাই। একটি দেশের জনপ্রশাসনে হাজার হাজার পদ-পদবি রয়েছে। যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, পছন্দের পদে পোস্টিং কিংবা পদোন্নতির জন্য কেউ কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস করেন।

“আমি মনে করি, যেকোনো সময় দেশের যেকোনো স্থানে, জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা চূড়ান্ত পেশাদারত্বের পরিচায়ক। সবারই মনে রাখা জরুরি, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আরও একটি বিষয় সম্পর্কেও আমি আপনাদের সামনে আমার মতামত তুলে ধরতে চাই। যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সমর্থন থাকা আমি ব্যক্তিগতভাবে দোষের মনে করি না। তবে যেকোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।

“আপনাদের কারো কারো মনে হয়তো প্রশ্ন উঠতে পারে, সেটি হলো, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। ইয়েস, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং সেটি সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। পার্থক্য হচ্ছে, বর্তমান সরকার যেসব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে, সেসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা জনগণের সামনে নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েছিলাম। জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। সুতরাং, সেই নির্বাচনি ইশতেহার এখন দেশের জনগণের ইশতেহার, জনগণের দলিল।

“জনগণের ইশতেহার বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাজটিই আপনারা আন্তরিকভাবে করবেন, সেটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের পরিবেশ-প্রতিবেশের সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া দরকার। আমরা যদি ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত অর্থাৎ আমাদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে সক্ষম হবো… ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, সংস্থাপন সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও লোক প্রশাসন কেন্দ্রের রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান উপস্থিত ছিলেন।

প্যাকেটের বর্জ্য, উৎপাদকের দায়িত্ব

সামান্তাদের বিদায়: তরুণদের রাজনীতির স্বপ্নে ভাঙন

করের বিকল্প যখন রেমিটেন্স: জবাবদিহিহীন রাষ্ট্রের ‘সহজ এক্সিট’ তত্ত্ব

বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড?

জাতীয়