খেলাধুলা ডেস্ক
বুয়েন্স আয়ার্সে অনুষ্ঠিত পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা। দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য পরিচিত দুই দলের দ্বৈরথ এবার ক্রিকেটেও নজর কাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রিকেট–প্রেমীদের আগ্রহও বেড়েছে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দুটি সিরিজেই আধিপত্য দেখিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ঘরের মাঠে শুরু হওয়া নতুন সিরিজেও একই ছন্দ বজায় রাখল দলটি।
প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্রাজিল নির্ধারিত কুড়ি ওভার খেললেও দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১০৯ রানে। শুরুতে ওপেনার লুইস মোরাইস ও রেজাউল করিম মিলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। মোরাইস দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন। তার ৪৪ বলের ইনিংসে ছিল কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট, যা ব্রাজিলকে সম্ভাব্য প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে সে সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। ওপেনার রেজাউল করিম করেন ১৭ রান। দলের বাকি ব্যাটাররা একে একে সাজঘরে ফেরেন এক অঙ্কের রান করে, ফলে ইনিংসটি বড় হতে পারেনি।
আর্জেন্টিনার বোলাররা শুরুর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। লুকাস রসি দারুণ ধারাবাহিক বোলিং করে মাত্র ৮ রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তার নিয়ন্ত্রিত লাইন–লেংথ ব্রাজিলের ব্যাটারদের বিপাকে ফেলে। অগাস্তিন রিভেরো নেন দুটি উইকেট। অন্য বোলাররাও নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বোলিং করে রানের গতি আটকাতে সক্ষম হন। ব্রাজিল পুরো ২০ ওভার খেললেও রানরেট ছিল তুলনামূলক কম, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আর্জেন্টিনা ইনিংসের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং প্রদর্শন করে। ওপেনার পেদ্রো ব্যারন দায়িত্বশীল ও পরিমিত ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। তার ৫৩ রানের ইনিংসটি গড়া হয় ৪২ বল খেলে, যাতে ছিল সাতটি চতুর্দশ ও একটি ছক্কা। ব্যারনের সঙ্গে ইনিংসের শুরুতেই আলেহান্দ্রো ফার্গুসন ২৩ রান তুলে দলকে এগিয়ে যাওয়ার পথটি সহজ করে দেন। তারা দুজন মিলে ৭৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ব্রাজিলের বোলিং আক্রমণ ভাঙতে সক্ষম হন।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অ্যালান কিশবাউম ও ম্যানুয়েল ইতুর্বে অবশিষ্ট প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করে দলকে জয় এনে দেন। কিশবাউম অপরাজিত ছিলেন ১৭ রানে এবং ইতুর্বে ৮ রানে। স্বাগতিকরা ১৪.৫ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয়। পুরো ইনিংস জুড়ে আর্জেন্টিনার ব্যাটাররা ঝুঁকি এড়িয়ে নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান, যা সহজ লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়ক হয়।
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে আর্জেন্টিনা ১–০তে এগিয়ে গেল। ক্রিকেটে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলক নতুন হলেও ধারাবাহিকভাবে মুখোমুখি সিরিজ আয়োজনের ফলে দুই দলের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়ছে। আঞ্চলিক ক্রিকেটের বিকাশেও এসব ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকায় ক্রিকেট জনপ্রিয়তার বিস্তারের জন্য মাঠের পারফরম্যান্স ছাড়াও দর্শকদের আগ্রহকে ধরে রাখার বিষয়টি অন্যতম বিবেচনা। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশই ঘরোয়া কাঠামো উন্নয়নে মনোযোগী হয়েছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক ম্যাচেও পড়ছে।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৮ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১০টায়। একই দিনে বিকাল ৩টায় মাঠে গড়াবে তৃতীয় ম্যাচ। বাকি দুটি ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে ৩০ নভেম্বর। সেদিন সকাল ১০টায় চতুর্থ ম্যাচ এবং বিকাল ৩টায় পঞ্চম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ধারাবাহিকভাবে কম ব্যবধানে ম্যাচ আয়োজনের কারণে দলগুলোর রোটেশন পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষত ব্রাজিলের ক্ষেত্রে দল গঠন ও ব্যাটিং অর্ডারে সম্ভাব্য পরিবর্তন আনার বিষয়টি নজরে রাখা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো দক্ষিণ আমেরিকার উদীয়মান ক্রিকেট কাঠামোর অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে। উভয় দলই পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনে আগ্রহী থাকবে, যা আঞ্চলিক ক্রিকেটের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


