মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আকাশপথ সীমিত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ভারতে আটকা একাধিক দল

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আকাশপথ সীমিত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ভারতে আটকা একাধিক দল

খেলাধূলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা আংশিকভাবে সীমিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কয়েকটি দল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিজ দেশে ফিরতে পারছে না। কলকাতা ও দিল্লিতে অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে দলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কলকাতায় অবস্থান করছে। একই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলা জিম্বাবুয়ে দলও দেশে ফিরতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত দলগুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ট্রানজিট হাবের কার্যক্রম সীমিত হয়ে গেছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দর আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক রুটে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। ফলে দক্ষিণ এশিয়া থেকে ইউরোপ, আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে যাতায়াতে নির্ভরশীল যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে দিল্লিতে শেষ ম্যাচ খেলার পর জিম্বাবুয়ে দলের দেশে ফেরার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। একইভাবে সুপার এইট পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়া পাকিস্তান দল শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কলম্বো হয়ে লাহোরে ফিরেছে। তবে আকাশপথে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দলকেই বিকল্প রুট বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার পর আন্তর্জাতিকভাবে বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এর প্রভাব সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও বিপুলসংখ্যক খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচারকর্মী ও ইভেন্ট স্টাফ দায়িত্ব শেষে দেশে ফেরার জন্য পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাব বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আইসিসি জানিয়েছে, তাদের ট্রাভেল ও লজিস্টিকস বিভাগ ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিকল্প হাব ব্যবহার করে সংযোগ নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংস্থাটির নিরাপত্তা পরামর্শকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি একটি বিশেষ ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট দল ও কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন।

বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী ৪ ও ৫ মার্চ সেমিফাইনাল এবং ৮ মার্চ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায় ঘিরে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আকাশপথ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প রুট ও বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দলগুলোর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় টুর্নামেন্টের অবশিষ্ট সূচি নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ