খুলনা — জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করলে দলটির প্রথম দায়িত্ব হবে দেশের পুনর্গঠন করা। তিনি সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনা মহানগর ও জেলা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বলেন, দেশের পুনর্গঠনে দল-মত, শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে সকল নাগরিককে একত্রিত করতে হবে। তিনি বলেন, “যেকোনো এক ধরনের মানুষ নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়।”
জনসভায় তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা সম্প্রতি প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ওই নেতার বক্তব্যের মাধ্যমে যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা দেশের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। এছাড়া বক্তব্যের পরে যেভাবে ‘আইডি হ্যাক হয়েছে’ বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, সেটি তিনি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে উল্লেখ করেন। তারেক রহমান বলেন, “বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আইডি এভাবে হ্যাক হওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যা বলা হয় এবং দলও এ মিথ্যাকে সমর্থন করেছে। এদের প্রকৃত পরিচয় হলো মিথ্যাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো মূলত স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে এবং ধর্মকে স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহার করে। তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে অংশ নিতে সকলকে সংহতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
এই জনসভা খুলনা মহানগর ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তৃতার সময় তারেক রহমান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিকরা একত্রিত হলে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামোগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
তারেক রহমানের বক্তব্যে নির্বাচনী শৃঙ্খলা, নারীর প্রতি সম্মান এবং রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে, নির্বাচনের আগে প্রচলিত মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার ঘটনাকে তিনি সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে জনসাধারণের সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
খুলনা এলাকায় বিএনপির এই জনসভা স্থানীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র-যুব সমাজের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে পুনর্গঠন ও সমন্বয়মূলক সরকারের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “দেশকে বিকাশমুখী ও সমন্বিত করতে হলে রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
উল্লেখযোগ্য, তারেক রহমানের এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার একটি অংশ হিসেবে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর দলটির অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তিনি ভোটারদের সামনে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং সমন্বিতভাবে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই জনসভা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিক নির্দেশনা এবং নির্বাচনী প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ প্রদান করেছে। তিনি বারবার জোর দিয়েছেন, যে কোনও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সামাজিক সংহতি, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং নারী ও যুব সমাজের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।


