সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ভিন্নমত: টিআইবি’র প্রতিবেদনে উদ্বেগ

সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ভিন্নমত: টিআইবি’র প্রতিবেদনে উদ্বেগ

 

রাজনীতি ডেস্ক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সোমবার জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে কিছু ইতিবাচক অর্জন থাকলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচকের প্রভাব বা বাধা বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যা রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তিকে দুর্বল করেছে।

ধানমন্ডিতে টিআইবির কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এ মন্তব্য করে। অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন কার্যকর হওয়া প্রয়োজন ছিল, কিন্তু তা সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে বিচার ব্যবস্থা ও প্রতিশোধের বিষয়কে একত্রিত করে দেখা গেছে, যা বিচারের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ফলে কতটুকু কার্যকর বিচার হয়েছে, তা নিয়ে অব্যাহতভাবে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।

টিআইবি গবেষণায় উল্লেখ করেছে, রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে, তবে মৌলিক কিছু বিষয়ে দলের অবস্থান অনড় থাকায় সংশ্লিষ্ট নীতি ও প্রক্রিয়া কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজনীতির ত্রিমুখী কাঠামোর ওপরও। আগে একক দলের প্রাধান্য থাকলেও বর্তমানে ক্ষমতা তিনটি প্রধান দলের মধ্যে বিভক্ত হয়ে গেছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি করছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশে সুষ্ঠু ও সমান সুযোগের ভিত্তিতে ভোট প্রদানের দৃশ্যমান নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে কিনা তা এখনও সুস্পষ্ট নয়। এর ফলে ভোটের প্রক্রিয়া ও ফলাফলের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

টিআইবি’র প্রতিবেদনে রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি এবং ব্যর্থতার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, কার্যকর কমিশনগুলো না থাকায় সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিরোধ এবং মৌলিক নীতিগত অনড় অবস্থান দেশের সংস্কার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন এবং বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারী নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হওয়া এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা দু’টোই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

টিআইবি’র এই গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারের দায়িত্বশীলতা, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের গুণগত মান নিয়ে সর্তকবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আগামী সময়ে এই সংস্কার কার্যক্রম আরও কার্যকর করার জন্য নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ এবং সুসংগঠিত পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

সংস্থার এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাষ্ট্র সংস্কারে ইতিবাচক অগ্রগতি থাকলেও রাজনৈতিক বাধা ও কমিশনগুলোর অকার্যকারিতা সংস্কারের গতিকে সীমিত করেছে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি শাসন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ