এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের নতুন মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা

এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের নতুন মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে সোমবার সকালে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে সারাদেশের জুয়েলারি বাজারে নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়।

এর আগে সর্বশেষ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবার দাম বাড়ায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ নিয়ে দেশের বাজারে মোট ২৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে, আর ১০ বার দাম কমানো হয়েছে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে চলতি বছরে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত বছরের চিত্রও একই ধরনের ছিল। বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত ঘন ঘন দাম সমন্বয় স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়, যা সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার, আমদানিকৃত স্বর্ণের ওপর শুল্ক ও কর কাঠামো এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা—এই সবকিছু মিলিয়েই মূলত স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার প্রভাব কিছুটা সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারেও পড়ে।

অন্যদিকে, ক্রেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, ঘন ঘন দাম বাড়া ও কমার কারণে স্বর্ণ কেনার সঠিক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম বা সামাজিক অনুষ্ঠানের সময় দাম বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের বাজার শুধু অলংকারের চাহিদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাব স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

বাজুস জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে স্বর্ণের দাম পুনরায় সমন্বয় করা হবে। ফলে সামনের দিনগুলোতেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ