চাঁদপুর ও অন্যান্য আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন

চাঁদপুর ও অন্যান্য আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর ও দেশের কয়েকটি আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তারা প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে পিছিয়ে আসছেন।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী গোলাফ হোসেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। একই দিনে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী) আসনের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান এবং কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লাও একই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন।

চাঁদপুর-২ আসনে গোলাফ হোসেন রবিবার দুপুরে মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়া গ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. মো. জালাল উদ্দিনের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি বিএনপির প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের যৌথ ভূমিকার উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

গোলাফ হোসেন জানান, চাঁদপুর-১ ও চাঁদপুর-৩ আসনের মতো চাঁদপুর-২ আসনেও রাজনৈতিক ঐক্যের অংশ হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. মো. জালাল উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ মতলব গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি না থাকার প্রতি জোর দেন এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নকে তার রাজনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদপুর জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা, মতলব উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পটুয়াখালী-৪ আসনে রবিউল হাসান বিকেল ৩টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশাররফ হোসেনকে সমর্থন জানান। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লাও নির্বাচন থেকে সরে এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামকে সমর্থন জানায়। বিষয়টি রোববার নাগেশ্বরী ডি এম একাডেমি ফুটবল মাঠে আয়োজিত জনসভায় ঘোষণা করা হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন রাজনৈতিক সমঝোতা স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ধারা ও সমর্থনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চাঁদপুর, পটুয়াখালী ও কুড়িগ্রামের মতো আসনে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনী ফলাফলের প্রাক-ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, দলগুলো যৌথভাবে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক একীকরণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলীয় জোটের প্রস্তুতি ও কৌশলগত সমন্বয়ের প্রতিফলন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এসব সমঝোতা ভোটারদের কাছে দলগুলোর দৃঢ়তা ও ঐক্য প্রদর্শনের একটি দিক হিসেবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ