ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর জাতির উদ্দেশে ভাষণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর জাতির উদ্দেশে ভাষণ

রাজনীতি ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দেশের দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পৃথক সময়ে টেলিভিশনে ভাষণ প্রদান করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব ভাষণ সম্প্রচার করা হচ্ছে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এর পরপরই সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ সম্প্রচারের কথা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলের মাধ্যমে এই ভাষণগুলো দেশব্যাপী একযোগে সম্প্রচার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। এসব ভাষণের মাধ্যমে দলগুলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, নির্বাচনী লক্ষ্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভোটারদের প্রতি আহ্বান তুলে ধরে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এর আগের দিন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) একই ধারাবাহিকতায় আরও দুইটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর নামেও পরিচিত, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। পরে সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। এসব ভাষণের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের অবস্থান ও নির্বাচনী ভাবনা জনসমক্ষে উপস্থাপনের সুযোগ পায়।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের ভাষণ ভোটারদের কাছে দলীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাষণ প্রচারিত হওয়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব বক্তব্য শোনার সুযোগ পান। এতে ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বিভিন্ন দল প্রচারণা, সভা-সমাবেশ এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। জাতির উদ্দেশে ভাষণ এই প্রচেষ্টার একটি আনুষ্ঠানিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ভাষণে সাধারণত দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো, গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। ফলে ভাষণগুলো শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং নির্বাচনকালীন সামগ্রিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখে।

আজকের ভাষণগুলোও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া এসব বক্তব্য নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ, ভোটারদের মনোভাব এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ধারণা দিতে পারে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এ ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও কর্মসূচি বাড়বে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ