ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে খাগড়াছড়ির লংগদুতে যৌথ টহল জোরদার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে খাগড়াছড়ির লংগদুতে যৌথ টহল জোরদার

সারাদেশ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির লংগদু উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অংশ নিচ্ছে।

খাগড়াছড়ি রিজিওনের লংগদু জোনের উদ্যোগে পরিচালিত এই যৌথ টহলের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

যৌথ টহল কার্যক্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লংগদু জোনের সঙ্গে বিজিবির ৩৭ বিজিবি রাজনগর ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। টহল চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ভোটকেন্দ্রের প্রবেশপথ, সংবেদনশীল এলাকা এবং জনসমাগমস্থল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সমন্বিত কমান্ড কাঠামোর আওতায় দায়িত্ব পালন করছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা।

উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই যৌথ টহল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, যা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

টহল কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকা লংগদু জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শাহিনুর আল সাকিব বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোই যৌথ বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে তথ্য আদান–প্রদান করা হচ্ছে।

পার্বত্য অঞ্চলে নির্বাচন পরিচালনা সাধারণত অতিরিক্ত সতর্কতার দাবি রাখে। দুর্গম এলাকা, বিচ্ছিন্ন বসতি ও সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ উপস্থিতিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের নির্বাচনে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ জানিয়েছেন, যৌথ টহল শুরু হওয়ার পর এলাকায় নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতির ফলে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। এতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ভোটার উপস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ নির্বাচন শেষে মূল্যায়ন করা হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ও মোবাইল টহল, চেকপোস্ট স্থাপন, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন ও পরবর্তী সময়েও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে লংগদু উপজেলায় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ