রাজনীতি ডেস্ক
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি ঢাকা-১৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্না ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, “আমি বর্তমানে বগুড়ায় অবস্থান করছি। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এবং বগুড়া-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। ঢাকা-১৮ একটি বৃহৎ নির্বাচনী এলাকা, যেখানে সাড়ে সাতটি থানা এবং প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ভোটার রয়েছে। তবে নির্বাচনের ব্যয় এত বেশি যে তা পরিচালনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে আমি ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তের কারণে হয়তো অনেকে কষ্ট পাবেন, তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
মান্না বর্তমানে বগুড়া-২ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সেখানে নির্বাচনী প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-১৮ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও ভোটঘনত্ব বেশি এমন একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত। নির্বাচনী ব্যয় ও প্রচারের জটিলতা প্রার্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। মাহমুদুর রহমান মান্নার সিদ্ধান্ত প্রার্থীর আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির বাস্তবিক মূল্যায়নের প্রতিফলন।
নাগরিক ঐক্য সূত্রে জানা যায়, দলটি বর্তমান নির্বাচনে সীমিত সংখ্যক আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদ সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু আসন থেকে প্রার্থীদের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে দলটি নির্বাচনী কৌশল পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল প্রার্থীদের ওপর জোর দিতে চাইছে।
ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনে বর্তমান সময়ে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র এবং এখানে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় বড় দলগুলোর আগ্রহ বেশি। প্রার্থীর ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সমর্থক সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে এটি দলীয় পরিকল্পনা এবং বাজেট সীমাবদ্ধতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরলেও, অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রার্থীর আগমনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে, এই ধরনের প্রত্যাহার সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখা যায়।
বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচনে প্রচারের ব্যয় অনেকাংশে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করার ক্ষেত্রে ছোট দল ও নতুন প্রার্থীর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত। মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ব্যয়ভার এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ পর্যন্ত ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তালিকা চূড়ান্ত না হলেও, মান্নার নাম প্রত্যাহার প্রার্থীদের অবস্থান এবং দলীয় কৌশল পুনর্বিন্যাসে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন, প্রার্থীর প্রত্যাহার এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি আগামী নির্বাচনে অন্যান্য ছোট দল ও নতুন প্রার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এ প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্য সভাপতি মান্না বগুড়া-২ আসন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রাখছেন এবং তার লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও সমর্থন জোরদার করা।


