নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ভার গ্রহণের আহ্বান রাশেদ খাঁনের

নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ভার গ্রহণের আহ্বান রাশেদ খাঁনের

রাজনৈতিক ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা এবং বর্তমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রশাসনিক ও নৈতিক দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। রাশেদ খাঁনের মতে, নাহিদ ইসলাম নিজে সরাসরি দুর্নীতিতে যুক্ত না থাকলেও তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ভার তাকেই নিতে হবে।

গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ চাইলে তার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খাঁন। তিনি উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নাহিদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ সার্কেল ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, তদবির বাণিজ্য এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে তার সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) আতিক মোর্শেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নিজ দপ্তরের অধীনস্থদের এসব তৎপরতা ওই সময়েই জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল।

রাশেদ খাঁন তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, নাহিদ ইসলাম নিজেই একসময় স্বীকার করেছিলেন যে কয়েকজন উপদেষ্টার ওপর আস্থা রেখে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। বর্তমানে সেই উপদেষ্টাদের অনেকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে। রাশেদ খাঁনের প্রশ্ন, এই ব্যক্তিদের নিয়োগের পেছনে যেহেতু নাহিদ ইসলামের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল, তাই তাদের অপকর্মের দায় তিনি কীভাবে অস্বীকার করবেন?

রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই বিএনপি নেতা। নাহিদ ইসলামের পূর্বের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তি এনসিপিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছিল। এই সহায়তার নেপথ্যে কোনো ব্যবসায়িক সুবিধা বা স্বার্থ কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে শেখ বশির উদ্দিনের মতো শিল্পপতিকে কেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং এনসিপির সাথে তার কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে প্রশাসনিক ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে নাহিদ ইসলাম বিগত ১৬ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু, তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সময় যাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করে গেছেন, তিনি সাবেক সরকারের বিতর্কিত আইনেই দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদান করেছেন। একে বিপ্লবোত্তর জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী ও চরম নৈতিক অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল সংস্কার এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়ন না করেই নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ এবং রাজনৈতিক দল গঠন করাকে রাজনৈতিক অনৈতিকতা হিসেবে দেখছেন রাশেদ খাঁন। তিনি মনে করেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে মাঝপথে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরে থেকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অভিযোগগুলো নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বচ্ছতা এবং বিপ্লব-পরবর্তী প্রশাসনিক সংস্কারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের মতো তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আসা এই অভিযোগগুলো কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের শাসনব্যবস্থার জবাবদিহিতাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। নাগরিকদের প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা, যা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি। রাশেদ খাঁনের এই বিবৃতি সেই দায়বদ্ধতার প্রশ্নেই নতুন মাত্রা যোগ করল।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ