সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি দিয়েছে সরকার

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে চিঠি দিয়েছে সরকার

পররাষ্ট্র ডেস্ক

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয়, বরং বর্তমানে যারা ভারতে অবস্থান করছেন বা আত্মগোপনে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা আত্মগোপনে চলে যান। তাদের অনেকেরই ভারতে অবস্থান করার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে এসেছে। এর আগে গত মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বিদেশের মাটিতে থাকা পলাতক ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে আসাদুজ্জামান খান কামালকে হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে এল।

আন্তর্জাতিক আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার বন্দী বিনিময় চুক্তির প্রেক্ষাপটে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হয় অথবা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে পলাতক ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে বর্তমানে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে তার উপস্থিতি অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের অনুরোধের বাস্তবায়ন জটিল হতে পারে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী, কোনো দেশের অভ্যন্তরে থাকা ব্যক্তিদের ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে উভয় দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার এখন ভারত সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, শুধুমাত্র আসাদুজ্জামান খান কামাল নয়, বিগত সরকারের যেসব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দেশের আইন থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন, তাদের সবার বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। ভারতের কাছে দেওয়া চিঠিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার বিস্তারিত বিবরণ এবং কেন তাদের প্রয়োজন, সেটির আইনি ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই প্রক্রিয়া সফল হলে দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা সুসংহত হবে এবং আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। এখন দেখার বিষয়, ভারত সরকার বাংলাদেশের এই আনুষ্ঠানিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কী ধরনের সাড়া দেয় এবং আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্য পলাতকদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ