জাতীয় ডেস্ক
সরকার গুম এবং বিচারবহির্ভূত খুনকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেশের নিরপরাধ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের হেয় করার অপচেষ্টা রোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন জাতীয় বিষয় নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অপব্যবহার করে একশ্রেণির মহল সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বহু মানুষকে হেয় করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অপতথ্য ছড়ানো রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নাগরিকদের ডিজিটাল সুরক্ষা প্রদান করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব, এবং সরকার সেই দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট আইনসমূহের কঠোর ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দেশত্যাগের সময় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মামলা দায়ের করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধ সংঘটিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
এ সময় সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রিসভা কিংবা উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্য যদি নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী যথাযথভাবে কাজ বা পারফর্ম করতে ব্যর্থ হন, তবে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে সেখানে পরিবর্তন আনবেন। এটি মূলত একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যা সরকারের গতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির এই ঘোষণা মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগগুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


