জাতীয় ঐক্য ও সংস্কার বাস্তবায়নে শরিক দলগুলোর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ঐক্য ও সংস্কার বাস্তবায়নে শরিক দলগুলোর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও জুলাই সনদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও শরিকদের সঙ্গে নিয়েই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজের আগে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সূচনা বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ৪১টি সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, রাজপথে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে যেভাবে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা হয়েছে, আগামী দিনেও সেই ঐক্য বজায় রাখতে হবে। জোট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এর মধ্যে ছোটখাটো দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু কোনো মৌলিক বিভেদ বা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই।

রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে যে ৩১ দফা আমরা একত্রে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলাম, আজ তা এ দেশের জনগণের রায়ে আস্থাশীল একটি দলিলে পরিণত হয়েছে। এই ৩১ দফা কিংবা জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র কাঠামোর সার্বিক সংস্কার নিশ্চিত করতে সমমনা দলগুলোর নিরলস সহযোগিতা প্রয়োজন।

আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করা একটি বিশেষ মহলের প্রতি ইঙ্গিত করে সরকারপ্রধান বলেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কিছু আত্মগোপনকারী শক্তি ও সুযোগসন্ধানী দল নিজেদের সংগ্রামের দাবিদার হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদী আমলে রাজপথে যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, উল্টো যারা স্বৈরাচারের দোসরদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে, তারাই এখন নতুন করে সামনে আসার চেষ্টা করছে। এসব গুপ্তদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে এবং জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত দেড় দশকে স্বৈরাচারী শাসনামলে অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এমন একটি ভঙ্গুর ও বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। এর পরও রাতদিন পরিশ্রম করে জনজীবন কিছুটা হলেও স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নতুন সরকার হিসেবে শতভাগ সফল হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি, তবে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপে শরিক দলগুলোর গঠনমূলক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর শরিক দলগুলোর শীর্ষনেতারা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ। বক্তারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্য পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন টেবিল ঘুরে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরবর্তীতে তিনি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষনেতাদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে নৈশভোজে অংশ নেন। আমন্ত্রিত নেতাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ