অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
প্রবাসীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ ডিসকাউন্ট প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের হয়রানিমুক্ত ও আধুনিক সেবা দিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রবাসী কার্ড বিতরণে বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই প্রবাসীদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স টিকেট এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারে বিশেষ ডিসকাউন্ট প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রবাসীদের বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন, লাগেজ সংগ্রহ এবং সামগ্রিক যাতায়াত প্রক্রিয়া সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর।
সভায় উপস্থিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের অধীন পরিচালিত দেশের বিভিন্ন হোটেল ও মোটেলে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ছাড় প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায়োরিটি চেক-ইন এবং বোর্ডিং সুবিধা প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। এসব সুযোগ-সুবিধা বর্তমান সরকারের প্রবর্তিত প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা উপভোগ করতে পারবেন।
সভার শুরুতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্তর্ভুক্ত ‘প্রবাসী কার্ড’ বাস্তবায়নের বিষয়টি উপস্থাপন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে এই কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ফলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের নানা ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং বিমানবন্দরগুলোতে তাদের যাতায়াত সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সেবা প্রাপ্তিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই যৌথ উদ্যোগ বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীরা বিমানবন্দর ও ভ্রমণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন। বিশেষ করে বিমান টিকিটে মূল্য ছাড়, প্রায়োরিটি বোর্ডিং এবং লাউঞ্জ সুবিধা প্রবাসীদের বিদেশ যাত্রা ও দেশে প্রত্যাবর্তনকে আরও সম্মানজনক ও আরামদায়ক করবে। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীরা দেশের প্রতি আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন এবং সামগ্রিক বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও গতিশীল হবে।


