আইন ও বিচার ডেস্ক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের অবহেলাজনিত অবহেলাজনিত মৃত্যু মামলায় ডেইলি স্টারের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (চার্জ ফ্রমিং) শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত। আসামিপক্ষের আইনজীবীর সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নতুন দিন ধার্য করেন।
বুধবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আলমগীর হোসেন এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী এ এস এম শাহাদাৎ আলী আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে আসামিপক্ষের আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কথা জানান এবং শুনানি পেছানোর জন্য আদালতে একটি সময়ের আবেদন জমা দেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে এবং মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে দিন নির্ধারণ করেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রীতি উরাং নামের ১৪ বছর বয়সী কিশোরীটি ঢাকার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলায় সৈয়দ আশফাকুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে সেখানে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ছিল। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই বাসার ড্রইং স্পেসের জানালার নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় কাচের ফাঁক দিয়ে প্রীতি নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত গৃহকর্মীর বাবা লোকেশ উরাং বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এস এম মাহমুদ রেজা সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত মামলাটি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন।
বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি বহুদিন ধরেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সামাজিক পরিমণ্ডলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে বহুতল ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও এ ধরনের অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নজরদারির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় দ্রুত এবং নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় একটি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখবে।
অভিযোগ গঠনের দিন পেছানোর ফলে এই আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে আরও কিছুটা সময় লাগছে। তবে বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাদীপক্ষ আদালতের পরবর্তী শুনানির ওপর নজর রাখছে। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রারম্ভিক শুনানিতে অংশ নেবেন এবং অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদালত তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন।


