ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতার নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতার নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

আইন আদালত ডেস্ক

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (ডিগ্রি) নির্ধারণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ইউপি আইনের ২৬ ধারায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই ধারার অধীনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিশ্চিত করতে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত এ আদেশ দেন আদালত। সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবীরা জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী একজন নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে প্রশাসনিক ও বিচারিকসহ বিস্তৃত পরিসরের দায়িত্ব পালন করতে হয়। বিশেষ করে ‘গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যানরা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের দেওয়ানি ও নির্দিষ্ট কিছু ফৌজদারি মামলা বিচার করার এখতিয়ার রাখে।

আইনজীবীদের যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের এই ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য আইন বিষয়ে স্নাতক অর্জন এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হতে হয়। অথচ সমমানের বিচারিক ক্ষমতা ভোগ করা সত্ত্বেও ইউপি চেয়ারম্যান পদে কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। আইনগত বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার অভাব একটি প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ কারণে ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইনের ২৬ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই রুল বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণী কার্যক্রম জোরদার করতে জনপ্রতিনিধিদের গুণগত দক্ষতা বৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত বিষয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করা হলে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধিসহ স্থানীয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনি সংস্কারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চূড়ান্ত শুনানির পর আদালত যদি এই বিষয়ে ইতিবাচক রায় প্রদান করেন, তবে জাতীয় সংসদে আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে নতুন এই যোগ্যতা কার্যকর করতে হবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ