বগুড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২

বগুড়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২

অপরাধ ডেস্ক

বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় ইউনিয়নের ফাপোড় পূর্বপাড়া এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, ধর্ষণের কারণে নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় জনগণ দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, জড়িত অন্য অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বগুড়া সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একটি মাদক মামলায় কারারুদ্ধ ছিলেন। পরিবারের প্রধান ও অভিভাবকের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই নারীকে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যৌন নির্যাতনের ফলে এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অতি সম্প্রতি ভুক্তভোগীর স্বামী আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরে এলে স্ত্রীর শারীরিক অবয়বের পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী তাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিকভাবে নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। আইন নিজেদের হাতে না তুলে নিয়ে তারা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। গত মঙ্গলবার রাতে ফাপোড় পূর্বপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা সংগঠিত হয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে ঘিরে ফেলেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে বগুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের হাতে আটক দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশ সূত্রে আটক দুই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় পূর্বপাড়া গ্রামের আজিজুল সোনারের ছেলে আলমগীর হোসেন এবং একই এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পিয়ন ও একই এলাকার মৃত লাল চান ফকিরের ছেলে মাহবুবুর রহমান নামে আরেক ব্যক্তি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে।

আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, নারীদের ওপর এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সুরক্ষার পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের সামাজিক মধ্যস্থতা বা দালালচক্রের প্রভাবে না পড়ে সরাসরি আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মামলা দায়েরের পরপরই ভুক্তভোগী নারীর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ