বস্ত্রশিল্পের সংকটে ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বস্ত্রশিল্পের সংকটে ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করলেন প্রধানমন্ত্রী

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বস্ত্রখাতের বিদ্যমান সমস্যা পর্যালোচনা, দ্রুত সমাধান এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এ খাতের ভূমিকা বিবেচনা করে সরকারের নীতিগত সহায়তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে বস্ত্রশিল্পের সমসাময়িক সংকট, বৈশ্বিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতৃবৃন্দ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বস্ত্র ও টেক্সটাইল খাতের অবদানের চিত্র বিশদভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েও শিল্পটি যেভাবে টিকিয়ে রাখা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং এ খাতের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের প্রধান রপ্তানি আয় বজায় রাখতে বস্ত্রশিল্পের ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আশ্বাস দেন যে, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের অগ্রগতিতে যেসব আইনি ও বাস্তবসম্মত বাধা রয়েছে, সরকার তা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে খাতটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে চিহ্নিত করা এবং একটি সমন্বিত সমাধানে পৌঁছানোর জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কমিটি খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

শিল্পখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি সরকারের সঙ্গে বস্ত্র ব্যবসায়ীদের দূরত্ব কমাবে এবং খাতটির দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতা নিরসনে দ্রুত গতি আনবে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিবর্তনের এ সময়ে টেক্সটাইল খাতে নীতিগত ছাড় ও আর্থিক বা কাঠামোগত সাপোর্ট পাওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং সহ-সভাপতি শামীম ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিটিএমএ-এর সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব ও বাদশা মিয়া বৈঠকে অংশ নেন। ব্যবসায়িক খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের মধ্যে আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া এবং মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলামও এতে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ