বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয়ের স্মৃতি নিয়ে নিজ শহর রোসারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয়ের স্মৃতি নিয়ে নিজ শহর রোসারিওতে ফিরলেন লিওনেল মেসি

খেলাধুলা ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে চূড়ান্ত পরাজয়ের দীর্ঘশ্বাস ও হতাশা সঙ্গে নিয়ে নিজ জন্মশহর রোসারিওতে ফিরেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ তারকা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গত রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। সেই মর্মান্তিক ও আবেগঘন লড়াই শেষে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমানে তিনি রোসারিও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্রের তথ্যমতে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ রোসারিওতে এসে পৌঁছান মেসি। বিমানবন্দর প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর ধূসর রঙের একটি এসইউভি গাড়িতে করে তাঁকে ফুনেস শহরের একটি কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সংরক্ষিত আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। রোসারিও শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই আধুনিক আবাসিক এলাকাতেই মেসির নিজস্ব বাসভবন রয়েছে। জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা শেষ হলে কিংবা ব্যক্তিগত ছুটিতে নিজ দেশে এলে মেসি সাধারণত এই বাড়িতেই অবস্থান করেন। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মহা-গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরাজয়ের মানসিক ধাক্কা সামলে উঠতে তিনি আপাতত কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে এখানেই নিরিবিলি সময় কাটাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় এবং মূল কোচ লিওনেল স্কালোনি সোমবার রাতে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে ফিরে আসেন। ফাইনালে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসলেও জাতীয় দলের এই দীর্ঘ পথচলা এবং লড়াকু মানসিকতাকে সম্মান জানাতে বুয়েন্স আয়ার্সের রাজপথে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী সমর্থক সমবেত হন। হাতে জাতীয় পতাকা, কণ্ঠে উদ্দীপনামূলক স্লোগান এবং চোখে অশ্রু নিয়ে জাতীয় বীরদের অভ্যর্থনা জানান ভক্তরা। পরাজয়ের গ্লানি সত্ত্বেও সমর্থকদের এমন উন্মাদনা ও আবেগ বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতির গভীরতারই পরিচয় বহন করে।

রোববারের ফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার লড়াইটি ছিল পুরো ফুটবল বিশ্বের নজরকাড়া এক ট্র্যাজেডি। খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিটে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও ১-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন, যা আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেস্তে দেয়। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই এই ফুটবল মহাতারকাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে এমন এক হারের মুখোমুখি হওয়া মেসির ভক্তদের হৃদয়েও গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

৩৯ বছর বয়সী এই প্রবীণ তারকা এবারের বিশ্বকাপজুড়ে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ক্যারিয়ারের এই সমাপনী অধ্যায়ে দাঁড়িয়েও তিনি পুরো আসরে মোট আটটি মূল্যবান গোল অর্জন করেন। শুধু গোল করাই নয়, প্রতিটি ম্যাচে দলকে সামনের দিকে টেনে নেওয়া এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়েরা এখন ক্লাব ফুটবলের পরবর্তী মৌসুমে যোগ দেওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত অবকাশ যাপন করছেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ ফুটবল অনুরাগী মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। পরাজয়ের বেদনা সত্ত্বেও নিজ শহর রোসারিওর অধিবাসীদের কাছে লিওনেল মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন, বরং তাঁদের অকৃত্রিম প্রেরণা ও গর্বের প্রতীক। পরিবারের সঙ্গ লাভ করে এই বিরতির পর তিনি আবার কবে নাগাদ পেশাদার খেলায় মনোনিবেশ করবেন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ