জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশে শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে যৌথভাবে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দেশটি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে ভূমিকা রাখতে চায়।
মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে পরদিন বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে জানা যায়, বৈঠকে উভয় দেশের কর্মকর্তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমুখী সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি। শিক্ষা উপদেষ্টা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জনে একত্রে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত খাতের সার্বিক উন্নয়নেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে এই বৈঠকে। চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি বাংলাদেশের বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশের ক্রমবর্ধমান বিমান চলাচল খাতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ করে বিমানবন্দরগুলোর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সরকারি সেবা সরবরাহ ব্যবস্থা অধিকতর দ্রুত ও গতিশীল করতে ডিজিটাইজেশন বা আধুনিকীকরণের প্রস্তাব দেয়া হয় বৈঠকে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজের সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্বন ক্রেডিট সহযোগিতা গড়ে তোলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগ জোরদারে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের গতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ শিক্ষা ও শিল্প খাতে বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক (পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট) আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করা হয়। সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার বহুমাত্রিক কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নিকট ভবিষ্যতে আরও গভীর, সুদৃঢ় এবং অর্থবহ করে তুলতে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও কার্যকর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় প্রতিনিধি একমত পোষণ করেন।


