অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ভিসা ইনকরপোরেটেড ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। পর্যালোচিত এ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট রাজস্ব, মুনাফা এবং মোট লেনদেনের পরিমাণ—তিনটি মূল সূচকে দৃশ্যমান প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও বাণিজ্যিক ব্যয়ের গতিশীলতা বজায় থাকায় এ সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকে ভিসার নিট রাজস্ব দাঁড়ায় ১১.৬ বিলিয়ন ডলারে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। ধ্রুবক মুদ্রা বা ‘কনস্ট্যান্ট-ডলার’ হিসাবে এ প্রবৃদ্ধির হার ১৩ শতাংশ। পেমেন্ট ভলিউম বা লেনদেনের সামগ্রিক পরিমাণ, সীমান্ত পেরোনো আন্তঃদেশীয় লেনদেন এবং প্রক্রিয়াজাত ট্রানজেকশনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এ রাজস্ব বাড়াতে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক মুনাফার চিত্রেও ইতিবাচক ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। প্রমিত হিসাবমান (জিএএপি) অনুযায়ী এ প্রান্তিকে ভিসার নিট মুনাফা হয়েছে ৫.৬ বিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ২.৯৭ ডলার, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় যথাক্রমে ৭ ও ১০ শতাংশ বেশি। নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ ব্যয় ও করের প্রভাব বাদ দিয়ে প্রস্তুতকৃত নন-জিএএপি হিসাবে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারে বা শেয়ারপ্রতি ৩.৩২ ডলার। এ ক্ষেত্রে নিট মুনাফায় ৮ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান ম্যাকইনার্নি জানান, আলোচ্য প্রান্তিকে সাধারণ ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কেনাকাটা ও ব্যয় করার প্রবণতা অত্যন্ত স্থিতিশীল ছিল। বিশেষ করে কনজ্যুমার পেমেন্ট, বাণিজ্যিক লেনদেন, আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর এবং মূল্যসংযোজন সেবা খাত থেকে আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাজার দখলের বৈশ্বিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কনস্ট্যান্ট-ডলারের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করলে তৃতীয় প্রান্তিকে ভিসার পেমেন্ট ভলিউম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপের অভ্যন্তরীণ লেনদেন ব্যতিরেকে বিশ্বব্যাপী ক্রস-বর্ডার বা সীমান্ত-পার লেনদেনের পরিধি বেড়েছে ১২ শতাংশ এবং সার্বিক আন্তঃদেশীয় লেনদেনের হার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এ সময়সীমায় ভিসা মোট ৭১.৭ বিলিয়ন ট্রানজেকশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যা গত বছরের একই সময়কালের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।
রাজস্বের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্ভিস খাত থেকে ভিসা অর্জন করেছে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ডেটা প্রসেসিং খাতে আয় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সংক্রান্ত লেনদেন থেকে আয় ৬ শতাংশ বেড়ে ৩.৯ বিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য বৈচিত্র্যময় সেবা থেকে অর্জিত রাজস্ব ৪৫ শতাংশ লাফিয়ে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
তবে ব্যবসায়িক বিস্তৃতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লায়েন্ট ইনসেনটিভ বা গ্রাহক সুবিধা বাবদ ভিসার ব্যয় হয়েছে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, নতুন জনবল নিয়োগ ও কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত ব্যয় বাড়ায় জিএএপি পরিচালন ব্যয় ৪.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কৌশলগত বিপণন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলশ্রুত হিসেবে নন-জিএএপি পরিচালন ব্যয়ও ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সূচক হিসেবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভিসার কাছে নগদ অর্থ, সমমানের সম্পদ এবং সহজে প্রদেয় বিনিয়োগযোগ্য সিকিউরিটিজ মিলে মোট ১৩.৯ বিলিয়ন ডলারের নগদ তারল্য বিদ্যমান রয়েছে। বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভিসার এই সাম্প্রতিক অবস্থান নিশ্চিত করে যে নগদ অর্থহীন আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা উত্তরোত্তর শক্তিশালী হচ্ছে।


