অপরাধ ডেস্ক
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এক বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৭৪০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ বাবা ও মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি কাস্টমাইজড মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকায় অবস্থিত জলিল আকন্দের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন শফিকুল ইসলাম (৫৬) এবং তার মেয়ে নাজমুন নাহার খানম তামান্না (২৩)। তবে অভিযানের সময় বাড়ির মালিক জলিল আকন্দ সশরীরে উপস্থিত না থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, সীমান্তঘেঁষা দুর্গাপুর উপজেলাকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বাগিচাপাড়া এলাকা থেকে একটি সন্দেহভাজন মিনি ট্রাক জব্দ করে পুলিশ। যানটি বিশেষ কৌশলে কাস্টমাইজ করা হয়েছিল এবং চালকের আসনের পেছনে বা ভেতরের অংশে বিশেষ কেবিন তৈরি করা হয়েছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহন করা যায়।
গোপন সংবাদ ও মিনি ট্রাক জব্দের সূত্র ধরে পুলিশের একটি দল বাগিচাপাড়া এলাকায় নজরদারি জোরদার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে জলিল আকন্দের বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালায় পুলিশ। তল্লাশিকালে একটি নির্দিষ্ট কক্ষের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭৪০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে মাদক কারবারে সহায়তার অভিযোগে শফিকুল ইসলাম ও তার মেয়ে তামান্নাকে আটক করা হয়।
দুর্গাপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রথম দফায় জব্দ করা মিনি ট্রাকটির গঠন দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি দিয়ে বড় ধরনের মাদক চালান পরিবহনের প্রস্তুতি চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় অনুসন্ধান চালিয়ে জলিল আকন্দের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং এই বড় সাফল্য আসে। জলিলের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই সময় বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আটক ব্যক্তিরা এবং পলাতক জলিল দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে এই সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে মাদকের চোরাচালান ও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। মাদকের এই অবৈধ চালানটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সাথে স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ের আর কোন কোন কারবারি জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার পর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সাথে সীমান্ত অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।


