অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের পুঁজিবাজারে টানা পতনের পর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নজর ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বড় ধরনের দরবৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দিনশেষে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও ডিএসইতে মোট কার্যক্রমে অর্থের অংকে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে, অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পাশাপাশি মোট লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই পুঁজিবাজারে কিছুটা বিক্রিচাপ লক্ষ্য করা যায়। লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের ফলে প্রধান মূল্যসূচক ঋণাত্মক ধারায় নেমে আসে। দিনের প্রথম তিন ঘণ্টা পর্যন্ত এ মন্দাভাব বজায় ছিল। তবে লেনদেনের শেষ আধঘণ্টায় বাজারের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে পুরো বাজারে। অন্যান্য খাতের বেশ কিছু শেয়ারেও লেনদেনের শেষ মুহূর্তে কেনার আগ্রহ তৈরি হয়, যা দিনশেষে সূচককে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে সহায়তা করে।
ডিএসইর বাজার পর্যালোচনা থেকে জানা যায়, দিনশেষে সব খাত মিলিয়ে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৬৩টি প্রতিষ্ঠান এবং ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩০টিরই দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে মাত্র ১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩টির দর।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরবৃদ্ধির ফলে ডিএসইর মূল মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। বাজারটির অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শীর্ষ ৩০টি ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ‘ডিএসই-৩০’ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। পাশাপাশি ইসলামি শরীয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসই শরীয়াহ’ ৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৫ পয়েন্টে।
সূচক বাড়লেও ঢাকার বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা সতর্কতামূলক থাকায় সামগ্রিক টার্নওভার কমেছে। কার্যদিবসটিতে ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ২৯৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে ঝোড়ো গতিতে দর বাড়লেও দিনের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মন্দাভাব থাকায় মোট হাতবদলের অংক কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি ইতিবাচক ছিল। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সিএসইতে মোট ২৩৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, দর কমেছে ৯৪টির এবং ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে এদিন ৪৬ কোটি ১৫ লাখ টাকার মূলধন লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার তুলনায় ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি।


