এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বজুড়ে চীনের নতুন আন্তঃসরকারি জোট ‘ওয়াইকো’তে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

এআই প্রযুক্তিতে বিশ্বজুড়ে চীনের নতুন আন্তঃসরকারি জোট ‘ওয়াইকো’তে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বৈশ্বিক অগ্রগতি, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত নতুন বিশ্ব জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ (ওয়াইকো) নামের এই নতুন আন্তঃসরকারি সংস্থায় বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে অংশ নেবে। শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বার্তা বা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

চীনের সাংহাইকে কেন্দ্র করে এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক বিকাশে নেতৃত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ওয়াইকো। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির ন্যায্য বিতরণ ও নীতিগত মান নিশ্চিত করতে গঠিত এই জোটে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যোগদান করেছে ২৯টি দেশ। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশ—যেমন ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া ও পাকিস্তান শুরু থেকেই নতুন এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ওয়াইকো গঠনের মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত গবেষণা ও উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরো গভীর করা। বর্তমান বিশ্বে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যে বিশাল প্রযুক্তিগত বা ‘ডিজিটাল বিভাজন’ রয়েছে, তা হ্রাস করে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এই সংস্থার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এছাড়া, এআই বিকাশের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি উন্মুক্ত, স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে জোটটি যৌথভাবে কাজ করবে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এই সময়ে এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অপব্যবহার রোধ করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াইকো এআই প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক প্রবিধান ও নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে, যাতে এই উদীয়মান প্রযুক্তি মানবতার কল্যাণে এবং নিরাপদ উপায়ে ব্যবহৃত হতে পারে।

বাংলাদেশ এই সংস্থায় পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এআই খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পর্যবেক্ষণ, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশে আইসিটি ও এআই সংক্রান্ত নীতিমালা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই অংশগ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ