নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রকে রাজনীতিকরণ মুক্ত করে সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অতীতে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও দলীয়করণের কারণে অনেক মেধাবী ক্রীড়াবিদ মূল্যায়িত হননি উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার খেলার মাঠ ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট দলকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।
বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের তরুণ সমাজ ও জাতিকে সুগঠিত করতে অর্থনৈতিক কিংবা শারীরিক অগ্রগতির পাশাপাশি ক্রীড়াচর্চার বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের খেলাধুলা অনেক আগেই বহুদূর এগিয়ে যেতে পারত, কিন্তু বারবার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়াজগতকে যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখা। এখন থেকে ক্রীড়াবিদদের মূল্যায়নে দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে কেবল মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, কুমিল্লায় একটি আধুনিক ‘ক্রীড়া ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। এর ফলে স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটার ও অ্যাথলেটরা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ সুবিধা পাবে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখবে।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যাপ্ত স্থান থাকা সত্ত্বেও সঠিক দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু মাঠ খেলাধুলার উপযোগী থাকছে না। তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে হলে বিদ্যালয় ও স্থানীয় মাঠগুলো অবিলম্বে সংস্কার এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত অনুশীলনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রোজী আকতার এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা। বক্তারা স্থানীয় পর্যায় থেকে উদীয়মান খেলোয়াড়দের সঠিক দিকনির্দেশনা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।


