জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সরকারের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং ঢাকা-৮ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পক্ষ থেকে এক প্রশাসনিক আদেশ জারির মাধ্যমে তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি এই চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই মনোনয়নের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে প্রস্তুতকৃত উক্ত চিঠিটি ইতোমধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামানের কার্যালয়ে পৌঁছানো হয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুসরণপূর্বক ঢামেক হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবামূলক কর্মকাণ্ডে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আনয়নের উদ্দেশ্যে মির্জা আব্বাসকে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত করা হলো।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একক বৃহত্তম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র হিসেবে স্থান দখল করে আছে। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার জটিল ও জরুরি রোগী প্রতিদিন এই হাসপাতালে সরাসরি সেবা গ্রহণ করেন। হাসপাতালটির প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, আধুনিকায়ন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, সেবার মান তদারকি এবং চিকিৎসক ও রোগীদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা তদারকির কাজে ব্যবস্থাপনা কমিটি মূল ভূমিকা পালন করে থাকে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য বা রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের এই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়, যাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি মির্জা আব্বাস বর্তমানে চিকিৎসা জনিত কারণে বিদেশে অবস্থান করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের একটি শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল সেন্টারে উন্নত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থতার প্রাথমিক জটিলতা কাটিয়ে তিনি বর্তমানে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি সাপেক্ষে চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে দ্রুতই তিনি দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো অতি-গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্থায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে হাসপাতালটির অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শয্যা সংকট নিরসন, জরুরি বিভাগের আধুনিকায়ন এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে একটি দক্ষ ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃত্ব মন্ত্রণালয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চলমান সেবামূলক কর্মকাণ্ড আরও আধুনিক, সুশৃঙ্খল এবং সহজলভ্য হবে বলে সাধারণ পাঠকমহল, রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের কিছু জনবল ও স্থান সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিকে আরও নিশ্চিত করবে।


