তথ্যপ্রবাহে প্রধান বাধা এখন অপতথ্য: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

তথ্যপ্রবাহে প্রধান বাধা এখন অপতথ্য: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে তথ্যের অপ্রতুলতা নয়, বরং ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, তথ্যের এই প্রাচুর্যের যুগে জনমতকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ‘বিভাগ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নুরুল কবির।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য বিকৃতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় দোদুল্যমান ভোটারদের প্রভাবিত করতে ও জনমত ঘুরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে ডিসইনফরমেশন প্রচারণা চালানো হয়। ফলে আধুনিক রাজনীতিতে জনমত ব্যবস্থাপনাই এখন বড় এক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষা করার পাশাপাশি ভুয়া ও বিকৃত সংবাদের এ ব্যাপক হুমকি মোকাবিলায় সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দিলেও সঠিক বেতন-ভাতা প্রদান করে না। এতে সাংবাদিকরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে অনিরাপদ হয়ে পড়েন। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক সমাজের সমন্বয়ে একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের সার্বিক সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমের মানদণ্ড নির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘মিডিয়া কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে। পূর্বে গঠিত বিভিন্ন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা করে আইন ও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

এরই অংশ হিসেবে ১৯৭৩ সালের প্রেস আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান আইনি কাঠামোতে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘সরকারবিরোধী’ শব্দটির ব্যবহার রয়েছে। এই শব্দের স্থলে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের আইনি সংশোধনীতে প্রধানমন্ত্রী নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকারের নীতিগত সমালোচনার থেকে আলাদা করে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকে প্রাধান্য দিতেই এই আইনি সংস্কার করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ