সার্জিও গর-দীনেশ ত্রিবেদির বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডা. শফিকুর রহমান

সার্জিও গর-দীনেশ ত্রিবেদির বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডা. শফিকুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরে বা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা কোনো তৃতীয় দেশের বা কোনো দেশের হাইকমিশনারের কার্যালয়ে হতে পারে না। এমন আলোচনা হওয়া উচিত কেবল সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গেই।

শনিবার (২ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদির মধ্যকার বৈঠকটি সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হলে আপত্তি নেই। কিন্তু ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক বা কৌশলগত বিষয় নিয়ে বৈঠক হলে সেই আলোচনা বাংলাদেশ সরকারের সাথে অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের সাথেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদার প্রশ্ন দেখা দেয়।

কূটনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য ছাড়াও দেশের সার্বিক রাজনীতি, আগামী নির্বাচন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর জামায়াত প্রধান বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। বিশেষ করে দেশের নতুন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কয়েক বছর আগে অবসরে যাওয়া একজন দলীয় ভাবাপন্ন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করার প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের মনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করছে।

নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর গণআস্থা ফেরানোর তাগিদ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল না। এখন আবার যদি পেছন থেকে নতুন কোনো অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়, তবে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে জনমনে তীব্র অনাস্থা তৈরি হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থাকে গতিশীল ও সুসংহত করতে হলে দলীয় নেতাকর্মীদের অনিয়ম ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করতে হবে। দলকে সুশৃঙ্খল রাখা যেমন দলীয় প্রধানের দায়িত্ব, তেমনি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার দায়ভারও সরকারকেই নিতে হবে।

চলতি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কিছু নীতির পরিবর্তনের সমালোচনাও করেন এই বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সব রাজনৈতিক দল জাতীয় গুরুত্বভিত্তিক বিভিন্ন ইস্যুতে গণভোট আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নে এ ধরনের অবস্থান পরিবর্তন বিভ্রান্তি তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সার্বিক সংস্কারের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান থাকার পরও কেন কৌশলগত পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট থেকে জামায়াত আমিরের এই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতি এবং দুর্নীতি দমনে বিরোধী দলের এই কঠোর বার্তা সরকারের নীতি নির্ধারণে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ