আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গাজা উপত্যকায় শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নতুন রূপরেখা ঘোষণার পরপরই ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোববার ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা।
ফিলিস্তিনের স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা পরিচালিত হয়েছে। পশ্চিম গাজা শহরের আল-সুসি টাওয়ারের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী শিশু সন্তান রয়েছে। এছাড়া গাজা শহরের রেমাল এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি অস্থায়ী তাঁবুতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ দুজন প্রাণ হারান।
উপত্যকার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। খান ইউনিস শহরের আল-কারারা এলাকার একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক দম্পতি ও তাঁদের শিশু সন্তান নিহত হন এবং এতে আরও তিনজন মারাত্মকভাবে আহত হন। দেইর আল-বালাহ এলাকায় নিজ বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় এক বয়স্ক দম্পতি প্রাণ হারিয়েছেন, আর পৃথক এক হামলায় মোটরবাইক আরোহী দুই ভাই নিহত হন। এর বাইরে জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং একটি চলন্ত গাড়িতে চালানো হামলায় আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি মারা যান।
সামরিক হামলার পাশাপাশি উপত্যকার চিকিৎসা কাঠামোর ওপর আঘাত অব্যাহত রয়েছে। দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর গুদামে সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ হামলায় দুটি চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণাগার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির পথ অবরুদ্ধ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত পর্ষদ গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি নতুন চুক্তির ঘোষণা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, হামাস এই খসড়া প্রস্তাবের বিস্তারিত নীতিগতভাবে গ্রহণ করলেও ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইতিবাচক বা চূড়ান্ত সম্মতি জানানো হয়নি। উল্টো নতুন প্রস্তাবের পরপরই ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় অর্জিত পূর্ববর্তী চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাসমূহ সত্ত্বেও গাজায় বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সহযোগিতায় বিগত বছরের শেষভাগে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২২২ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। নতুন করে ইসরায়েলি তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে গাজার সার্বিক মানবিক পরিস্থিতি ও প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


