‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’কে শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহাসিক আয়োজনে রূপ দেওয়ার ঘোষণা

‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’কে শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহাসিক আয়োজনে রূপ দেওয়ার ঘোষণা

শিক্ষা ও ক্রীড়া ডেস্ক

দেশের শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ টুর্নামেন্টকে একটি ঐতিহাসিক ও মানসম্পন্ন আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা, কার্যকর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটিকে জাতীয় উৎসবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট জাতীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি’র এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকার ও কমিটির প্রতিনিধিরা এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বৈঠকে টুর্নামেন্ট পরিচালনার কৌশলগত লক্ষ্য উপস্থাপন করতে গিয়ে জানান, অতীতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে টুর্নামেন্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পূর্ববর্তী আসরগুলোতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী এবং মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ১১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। তবে বিশাল এই আয়োজনের ব্যাপকতা সত্ত্বেও প্রচার, প্রচারণামূলক কার্যক্রম এবং ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অতীতে কিছু কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ছিল। এ বছরের আয়োজনে সেই ঘাটতিগুলো সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠে টুর্নামেন্টটিকে আরও বড় পরিসরে দেশবাসীর সামনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এবারের টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য হবে ব্যাপক প্রচার ও জনসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা। যাতে এটি প্রতিটি গণমাধ্যমে উপযুক্ত গুরুত্ব পায় এবং সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়াপ্রেমীরা এর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারেন। আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও ত্বরান্বিত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রতিযোগিতাকে আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় বড় আসর বা বিশ্বকাপের আদলে জাকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট ‘টিম সং’ বা থিম সংসহ বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচি থাকবে। ক্রীড়াঙ্গনে বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে এবং সারা দেশের শিক্ষার্থীদের সমানভাবে উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর ঢাকার বাইর থেকে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হবে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ও চূড়ান্ত (ফাইনাল) ম্যাচ উভয় পর্বেই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজে এই টুর্নামেন্টের নামকরণ করেছেন। এটি কেবল একটি সাধারণ বা বার্ষিক খেলাধুলার প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের আগামী প্রজন্মকে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার সমন্বয়ে এক সুনির্দিষ্ট ধারায় গড়ে তোলার একটি জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি।

মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রমকে সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবেন এবং টুর্নামেন্টের নানা কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।

বিশাল এই জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগসহ একাধিক সরকারি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতের যে কোনো জাতীয় ক্রীড়া কর্মসূচির জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ