অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশিত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত বছরে বাংলাদেশ মোট ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের তৈরি পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেছে। এই প্রবৃদ্ধির ফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবধান বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে সামগ্রিক বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেলেও শীর্ষ স্থানটি যথারীতি চীনের দখলেই রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের হালনাগাদ তালিকায় দেখা যায়, যথাক্রমে তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে তুরস্ক।
তবে বৈশ্বিক এই অর্জনের মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য তৈরি পোশাক খাতে কিছু উদ্বেগজনক সংকেত উঠে এসেছে। বিগত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত দ্রুত। বিশেষ করে তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনাম এক বছরে প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভিয়েতনাম যেভাবে তাদের প্রভাব বিস্তার করছে, তাতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্থানটি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তাছাড়া ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং কম্বোডিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলো ক্রমাগত তাদের শিল্প অবকাঠামো ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। এই বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে কেবল প্রচলিত পোশাক উৎপাদনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না।
বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ হলো, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশন পদ্ধতির প্রয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের মান উন্নয়ন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের বিকাশ, দ্রুত পণ্য পৌঁছানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে দ্রুত নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে নিজেদের সক্ষমতা জোরদার করতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।


