সংস্কৃতি ডেস্ক
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের মহান আত্মত্যাগ ও গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আগামী ৬ আগস্ট থেকে দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে এটি পরিদর্শন করতে পারবেন। দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে সময়ভিত্তিক অনলাইন স্লট বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘর খোলার প্রস্তুতি, প্রবেশাধিকারের নিয়মাবলী, টিকিটের মূল্য এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও অবস্থান সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় এড়াতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শনার্থীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। উদ্বোধনের প্রথম দিনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের সুবিধার্থে সাংবাদিকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকবে। এরপর ৬ আগস্ট থেকে সাধারণ জনগণ অনলাইনে কাটা টিকিটের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
জাদুঘর দর্শনে টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক দর্শনার্থীদের জন্য প্রতি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিদর্শন ত্বরান্বিত ও সুশৃঙ্খল করতে দর্শনার্থীদের জন্য অনলাইন স্লট বুকিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের নির্ধারিত অনলাইন লিঙ্কে গিয়ে পছন্দের দিন ও সময় নির্বাচন করে প্রবেশ স্লট বুক করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দিনের (যেমন ৬ আগস্ট) সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে আবেদনকারীকে পরবর্তী উপলব্ধ দিনের ফাঁকা সময় বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে প্রাপ্ত অনুমোদিত সময়সূচী অনুসরণ করেই কেবল দর্শনার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাউকেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের স্মারক, আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, আলোকচিত্র ও গণসংগ্রামের প্রামাণ্য ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে এই স্মৃতি জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত এ জাদুঘরটি জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, জাদুঘরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্মারকগুলোর সুরক্ষা বজায় রাখতে দর্শনার্থীদের অনলাইন ব্যবস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি ভেতরের শৃঙ্খলা বিধি মেনে চলতে হবে। অনলাইন টিকিটিং ও স্লট বুকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ কোনো প্রকার দুর্ভোগ ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।


