দূষণ কমেছে ঢাকায়, বায়ুর মানে মিলেছে স্বস্তি

দূষণ কমেছে ঢাকায়, বায়ুর মানে মিলেছে স্বস্তি

জাতীয় ডেস্ক

বিশ্বের প্রধান প্রধান শহরের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সর্বশেষ সূচকে দেখা যায়, দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ২৭তম স্থানে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সময়ে ঢাকার বায়ুমান স্কোর বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৮৫। পরিবেশ বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরি ভাষায় এই মানের বায়ুকে ‘মডারেট’ বা মাঝারি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এর ফলে সাধারণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শুষ্ক মৌসুমে ইটভাটার নির্গমনের কারণে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় অবস্থান করছিল। বিশেষ করে শীতকাল এবং গ্রীষ্মের শুরুতে ঢাকা নিয়মিতভাবে সূচকের শীর্ষ তিন বা পাঁচ দেশের মধ্যে অবস্থান করত, যেখানে বায়ুমান স্কোর প্রায়শই ২০০ থেকে ৩০০ ছাড়িয়ে যেত। তবে বৃষ্টিপাত, মৌসুমী বাতাসের প্রভাব এবং সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের জোর তৎপরতার কারণে বায়ুর মানের এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

একই সময়ে প্রকাশিত বৈশ্বিক তালিকায় বায়ুদূষণের শীর্ষস্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির বায়ুমান স্কোর ২০৬ স্পর্শ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশ্বিক তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোর, যার একিউআই স্কোর ১৭২। ১৬৩ স্কোর নিয়ে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ড শহর ১৫৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ১৫৫ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এই শহরগুলোর বাতাস বর্তমানে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে।

বায়ুর মান নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক পরিমাপক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত একিউআই স্কোরকে ‘ভালো’ বা বিশুদ্ধ বায়ু বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা সহনীয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূচক ১০১ থেকে ১৫০-এর ঘরে পৌঁছালে তা শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও অ্যাজমা রোগীদের মতো সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হয়ে ওঠে। আর ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সবার জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০ এর ওপরের স্কোরকে নাগরিক স্বাস্থ্যের জন্য ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা জরুরি স্বাস্থ্য পরিবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বায়ুর মানের এই সাময়িক স্বস্তি স্থায়ী করতে হলে সুনির্দিষ্ট নীতি নির্ধারণ এবং পরিচ্ছন্ন বায়ু আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, এবং শহরজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার মাধ্যমে বাতাসের এই মাঝারি মানকে দীর্ঘমেয়াদে ‘ভালো’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা সম্ভব। বায়ুর মানের এমন ধারাবাহিক উন্নতি বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদে রাজধানীবাসীর শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ বায়ুদূষণজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

আবহাওয়া শীর্ষ সংবাদ